সাংবাদিক হায়াত উদ্দিন হত্যা মামলায় দুই আসামি গ্রেফতার
বাগেরহাটে চাঞ্চল্যকর সাংবাদিক এএসএম হায়াত উদ্দিন হত্যা মামলার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে বাগেরহাট জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। জেলা গোয়েন্দা শাখার অফিসার ইনচার্জ মোঃ শরিফুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি চৌকস টিমের সফল অভিযানে হত্যাকাণ্ডে জড়িত দুই মূল আসামিকে রাজধানীর আশুলিয়া থেকে গ্রেফতার করেছে। সোমবার(৬ অক্টোবর) বিকেলে গ্রেফতার ওমর ফারুক ওরফে ইমন হাওলাদার (২৫) ও আশিকুল ইসলাম ওরফে আশিক (২৫)কে বাগেরহাট বিজ্ঞ আদালতে হাজির করা হলে তারা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছেন বলে নিশ্চিত করেছেন জেলা গোয়েন্দা শাখার অফিসার ইনচার্জ মোঃ শরিফুল ইসলাম।
গ্রেফতার ওমর ফারুক ওরফে ইমন হাওলাদার বাগেরহাট সদরের গোপালকাটি এলাকার মোঃ শহিদুল হাওলাদারের ছেলে ও আশিকুল ইসলাম ওরফে আশিক একই এলাকার মোঃ আব্দুল হাই এর ছেলে।
এর আগে গত রবিবার ৫ অক্টোবর (রবিবার) বিকাল ৫টা ৫০ মিনিটে ঢাকা জেলার আশুলিয়া থানার পল্লী বিদ্যুৎ এলাকার নিউ গোল্ডেন সিটি আবাসিক হোটেলের চতুর্থ তলার ১১৮ নম্বর কক্ষ থেকে গ্রেফতার করা হয়।
জেলা গোয়েন্দা শাখার অফিসার ইনচার্জ মোঃ শরিফুল ইসলাম জানান, ফেসবুক পোস্ট থেকেই শুরু হয় বিরোধ। নিহত এএসএম হায়াত উদ্দিন (৪২) জাতীয় দৈনিক ভোরের চেতনা পত্রিকায় ষ্টাফ রিপোর্টার বাগেরহাট হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। সম্প্রতি তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে দেওয়া সচেতনতামূলক একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে আসামিদের সঙ্গে তার বিরোধের সূত্রপাত হয়।
এই বিরোধের জের ধরে গত শুক্রবার (৩ সেপ্টেম্বর) অক্টোবর পরিকল্পিতভাবে গ্রেফতারকৃত দুইজনসহ আরও কয়েকজন সহযোগী মোটরসাইকেলে করে ঘটনাস্থলে এসে চাপাতি, ধারালো রামদা, ছুরি, লোহার রড, হাতুড়ি, হাসুয়া ও লাঠিসহ সজ্জিত হয়ে হায়াত উদ্দিনের ওপর হামলা চালায়। তারা মাথা, ঘাড়, পাঁজর, পেট ও পায়ে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে, এতে তিনি গুরুতর জখম হন।
স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে বাগেরহাট ২৫০ শয্যা হাসপাতালে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হলে তাকে খুলনা ২৫০ শয্যা হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়, সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
রোববার (৫ অক্টোবর) সন্ধ্যায় নিহত সাংবাদিক এস. এম. হায়াত উদ্দিনের মা হাসিনা বেগম বাদী হয়ে ৭ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করে দণ্ডবিধির ৩০২/৩৭৯/৩৪ ধারায় মামলা দায়ের করেন।
ওসি জানান, গ্রেফতারের পর আজ সোমবার (৬ অক্টোবর) আসামিদের আদালতে হাজির করা হলে তারা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে। তিনি আরও জানান,
সাংবাদিক হত্যা মামলার সকল আসামিকে আইনের আওতায় আনা হবে এবং এই জঘন্য হত্যাকাণ্ডের পেছনের সকল ষড়যন্ত্র উন্মোচন না হওয়া পর্যন্ত অভিযান চলবে।












