
ঈদের আর মাত্র কয়েক দিন বাকি। সময় যত ঘনিয়ে আসছে ততই খুলনা নগরীর বিপণি বিতানগুলোতে বাড়ছে ক্রেতাদের ভিড়। ঈদের নামাজে নতুন পাঞ্জাবি পরার ঐতিহ্যকে সামনে রেখে এখন পাঞ্জাবির দোকানগুলোতে সবচেয়ে বেশি ভিড় দেখা যাচ্ছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, রমজানের শেষ সপ্তাহে এসে পাঞ্জাবি বিক্রি বেশ ভালো হচ্ছে এবং ঈদের আগের দিনগুলোতে বিক্রি আরও বাড়বে বলে তারা আশা করছেন।”
আজ ২৩ রমজান। ঈদের আর মাত্র ৬ দিন বাকি থাকায় নগরীর বিভিন্ন মার্কেট ও শোরুমে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে ঈদের আমেজ। দোকানগুলোতে সাজানো হয়েছে দেশি-বিদেশি কাপড়ের তৈরি নানা ডিজাইন ও রঙের বাহারি পাঞ্জাবি। ক্রেতারা ফুটপাতের দোকান থেকে শুরু করে বড় বড় শোরুম ঘুরে পছন্দের পাঞ্জাবি খুঁজে কিনছেন।
গতকাল বৃহস্পতিবার নগরীর ডাকবাংলো মোড়, রেলওয়ে বিপণি বিতান মার্কেট, নিক্সন মার্কেটসহ বিভিন্ন মার্কেট ঘুরে দেখা যায়, তরুণদের পাশাপাশি মধ্যবয়সী ও প্রবীণ ক্রেতারাও পছন্দের পাঞ্জাবি কিনতে দোকানগুলোতে ভিড় করছেন। অনেকেই আবার দামাদামি করে পছন্দের পাঞ্জাবি কিনে নিচ্ছেন। ক্রেতাদের চাহিদা মাথায় রেখে ব্যবসায়ীরা আগে ভাগেই বিভিন্ন ধরনের পাঞ্জাবি এনে সাজিয়ে রেখেছেন তাদের দোকানে।”
ব্যবসায়ীরা জানান, এবারের ঈদে জাফরন, সুতি, কটন পপলিন ও চেরি কাপড়ের তৈরি পাঞ্জাবির চাহিদা বেশি। এসব পাঞ্জাবি ৬০০ টাকা থেকে শুরু করে ২ হাজার ৫০০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। তবে কিছু লাক্সারি পাঞ্জাবির দাম আরও বেশি।”
রেলওয়ে মার্কেটের কেআই ফ্যাশনের বিক্রেতা আফরোজ বলেন, রমজানের শুরু থেকেই বিক্রি ভালো হচ্ছে। এই মার্কেটে নিম্ন থেকে উচ্চবিত্ত সব ধরনের ক্রেতাই আসেন। তরুণদের পাশাপাশি মধ্যবয়সী ও প্রবীণ ক্রেতারাও পাঞ্জাবি কিনছেন। অনেকে আবার শার্ট-প্যান্টের স্টাইলে তৈরি পাঞ্জাবি ও পায়জামা কিনছেন।
নিকটবর্তী একটি দোকান ‘পাঞ্জাবি ঘর’-এর মালিক হুজাইফা জানান, তাদের দোকানে পাকিস্তানি কাপড়ের তৈরি লাক্সারি পাঞ্জাবি, কাবুলি, চেরি, জাফরন ও চায়না কাপড়ের তৈরি বিভিন্ন ডিজাইনের পাঞ্জাবি বিক্রি হচ্ছে। লাক্সারি পাঞ্জাবির দাম ২ হাজার টাকা থেকে শুরু হয়ে ৪ হাজার টাকা পর্যন্ত। কাবুলি পাঞ্জাবি ১ হাজার ৫০০ থেকে ৪ হাজার টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। তিনি বলেন, গত বছরের তুলনায় কাপড়ের দাম বেড়েছে, ফলে পাঞ্জাবির দামও কিছুটা বেশি।”
একই মার্কেটের মাহি ফ্যাশন, শুভ ফ্যাশন ও ইউনিক পাঞ্জাবির দোকানগুলোতেও ক্রেতাদের বেশ ভিড় দেখা যায়। ব্যবসায়ীরা জানান, ঈদের যত কাছাকাছি সময় আসছে, বিক্রি ততই বাড়ছে।”
ক্রেতাদের মধ্যেও রয়েছে ঈদের কেনাকাটার উচ্ছ¡াস। খুলনার নিরালা এলাকার বাসিন্দা আম্মার শেখ দাদির সঙ্গে নিক্সন মার্কেটে পাঞ্জাবি কিনতে এসেছেন। তিনি বলেন, ঈদে শার্ট-প্যান্টের পাশাপাশি একটি পাঞ্জাবি থাকলে ভালো লাগে। পাকিস্তানি কাপড়ের তৈরি একটি লাক্সারি পাঞ্জাবি কিনে তিনি বেশ খুশি।
বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চাকরিজীবী এস এম মাহবুবুর রহমান বলেন, তার পছন্দ কাবুলি পাঞ্জাবি। প্রস্তুত পোশাকে পছন্দের ডিজাইন না পাওয়ায় তিনি কাপড় কিনে দর্জির কাছে বানানোর জন্য দিয়েছেন।”
অন্যদিকে ব্যবসায়ী আসাদুর রহমান জানান, তিনি একটি এতিমখানায় দান করার জন্য পাঞ্জাবি কিনতে এসেছেন। বাজেট অনুযায়ী তিনি ৫০০ টাকার মধ্যে কয়েকটি পাঞ্জাবি কিনবেন বলে জানান।”
এদিকে ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে, ততই নগরীর মার্কেটগুলোতে ক্রেতাদের ভিড় বাড়ছে। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত মার্কেটগুলোতে কেনাকাটা চলছে। অনেক মার্কেটের সামনে যানজটও সৃষ্টি হচ্ছে। তবুও ঈদের আনন্দে কেনাকাটা করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন খুলনাবাসী।#sm
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: রেল রোড, বাগেরহাট।
ইমেইল: press24masum@gmail.com
মোবাইল: 01834112222
All rights reserved ©2026 daily Uttal.com