
সারাদেশের ন্যায় বাগেরহাটেও বৃদ্ধি পেয়েছে ডেঙ্গু রোগি। গত ১৫ দিনে বাগেরহাট জেলা সদর হাসপাতালে কমপক্ষে দুইশো ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। গত এক সপ্তাহে গড়ে প্রতিদিন অন্ততঃ ১০ জন করে ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছে। চলতি সপ্তাহে একদিনেই সর্বোচ্চ ৫৩ জন রোগী ভর্তি হয়। হাসপাতালের রেকর্ড অনুযায়ী ডেঙ্গু রোগে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে জেলার কচুয়া ও মোরেলগঞ্জ উপজেলার সীমান্ত এলাকাতে। জনবল সংকটে চিকিৎসাসেবা দিতে চিকিৎসকদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। আগামী দুই মাস ডেঙ্গু রোগের প্রাদুর্ভাব আশঙ্কাজনকহারে বাড়ার শঙ্কা করছে স্বাস্থ্য বিভাগ। তাই ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ। বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার বাধাল ও বারুইখালী গ্রাম থেকে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি স্কুল শিক্ষার্থী ফাতেমা আক্তার ও গৃহবধূ সোমা সাহা বলেন, বাড়ির পাশে বেশ কয়েকজন আগে ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হন। তাদের কারনে আমরা আক্রান্ত হয়েছি। ডেঙ্গু উপসর্গ জ¦র, গা ব্যাথা হলে চিকিৎসকের কাছে আসি। তারা নমুনা নিয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষা করলে ডেঙ্গ পজেটিভ হয়। তারপর থেকে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছি। বাগেরহাট জেলা হাসপাতালের তত্ত¡াবধায়ক (সুপারিনটেনডেন্ট) ডা. অসীম কুমার সমাদ্দার বলেন, বাগেরহাটে ডেঙ্গু রোগের প্রাদুর্ভাব বেড়েছে। গত মে মাস থেকে ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হতে শুরু করে। জুন মাসে তা দাঁড়ায় দুইশোতে। জুলাই মাসের মাঝামাঝিতে রোগীর সংখ্যা ছাড়িয়েছে চারশোতে। দিন দিন রোগীর সংখ্যা বেড়েই চলেছে। গত এক সপ্তাহে প্রতিদিন অন্তত ১০ জন করে ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছে। চলতি সপ্তাহে একদিনেই সর্বোচ্চ ৫৩ জন রোগী ভর্তি হয়। এখনই ডেঙ্গু রোগের লাগাম টানা না গেলে সামনে পরিস্থিতি সামাল দেয়া কঠিন হবে। সামনে রোগী আরও বাড়বে। শুক্রবার (১৭ জুলাই)দুপরে ডাঃ তাপস কুমার সরকার, আবাসিক মেডিকেল অফিসার, তিনি বলেন ,মোট ডেঙ্গুরোগী সংখ্যা দাড়িয়েছে ৪১৬ জনে, গতকাল ভর্ত্তি ছিল ৩২ জন আজকের দিন পর্যন্ত ডেঙ্গু রোগীর আক্রান্ত কোনো ব্যক্তির মৃত্যু
মৃত্যু হয়নি,ডাঃ তাপস কুমার সরকার, তিনি আরো বলেন ,বাগেরহাট জেলার সর্বস্তরের মানুষের উন্নত ও নিরাপদ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে আমাদের চিকিৎসক, নার্স ও সকল স্বাস্থ্যকর্মী নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন,স্বাস্থ্য বিভাগ আশঙ্কা করছে, আগামী দুই মাস জেলায় ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব আরও বাড়তে পারে। তাই এডিস মশার বিস্তার রোধে ও ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবাইকে সর্বোচ্চ সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি রোগী সবচেয়ে বেশি আসছে কচুয়া ও মোরেলগঞ্জ উপজেলা দুটির সীমান্তবর্তি এলাকা দিয়ে। এই এলাকাতে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। হাসপাতালে একটি ইউনিট চালু করে সেখানে ডেঙ্গু রোগীদের ভর্তি করে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। তাই এডিস মশার বিস্তার রোধে সবাইকে সচেতন হতে হবে।#az

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: রেল রোড, বাগেরহাট।
ইমেইল: press24masum@gmail.com
মোবাইল: 01834112222
All rights reserved ©2026 daily Uttal.com