
বর্ষা শেষ হয়েছে দেড় মাস আগে। কিন্তু পানি নিষ্কাশন না হওয়ায় শরতের শেষেও যশোরের দুঃখখ্যাত ভবদহ অঞ্চলের অন্তত ২০০ গ্রাম জলাবদ্ধ। তিন মাস ধরে পানিবন্দী এসব গ্রামের লক্ষাধিক মানুষ চরম দুর্ভোগে দিন কাটাচ্ছেন। অনেক পরিবার ঘরবাড়ি ছেড়ে উঁচু সড়কের পাশে আশ্রয় নিয়েছে। জলাবদ্ধতার কারণে ফসলি জমি, বাড়িঘর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও উপাসনালয় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সংকটের স্থায়ী সমাধানের দাবিতে আগামী ৫ অক্টোবর ‘ভবদহ দিবস’ উপলক্ষে পদযাত্রা ও সমাবেশের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটি।
গত বুধবার যশোর শহরের ভোলা ট্যাংক রোডে সংগঠনটির অস্থায়ী কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে কর্মসূচি ঘোষণা করেন ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক গাজী আবদুল হামিদ। তিনি বলেন, ভবদহ অঞ্চলের স্থায়ী জলাবদ্ধতা নিরসনে আগামী মাঘী পূর্ণিমার আগেই কার্যকর জোয়ারাধার ব্যবস্থাপনা (টিআরএম) চালু করতে হবে।
একই সঙ্গে আমডাঙ্গা খাল দ্রুত প্রশস্ত ও পুনঃখননের দাবি জানান তিনি।
ভবদহ অঞ্চলের মধ্যে রয়েছে যশোরের মনিরামপুর, অভয়নগর ও কেশবপুর উপজেলা এবং খুলনার ডুমুরিয়া ও ফুলতলার নিম্নাঞ্চলের কিছু অংশ। অভয়নগরের ভবানীপুরে শ্রী নদীর ওপর নির্মিত ভবদহ স্লুইসগেট দিয়ে ৫৪টি বিলের পানি নিষ্কাশিত হয়। কিন্তু পলি পড়ে মুক্তেশ্বরী, টেকা, শ্রী ও হরি নদীর নাব্যতা কমে যাওয়ায় স্বাভাবিক পানি নিষ্কাশন ব্যাহত হচ্ছে। গত জুলাইয়ের অব্যাহত বৃষ্টিতে তিন উপজেলার অন্তত ২০০ গ্রাম প্লাবিত হয় বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।
জলাবদ্ধতার প্রভাব পড়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও। অভয়নগরের সুন্দলী ইউনিয়নের ডহর মশিয়াহাটী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ডহর মশিয়াহাটী নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সামনে পানি জমে রয়েছে। মনিরামপুরের কুলটিয়া ইউনিয়নের বাজে কুলটিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনেও পানি থইথই করছে; জন্মেছে কচুরিপানা। ফলে এসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ব্যাহত হচ্ছে।
গাজী আবদুল হামিদ বলেন, ‘সেনাবাহিনীর মাধ্যমে ১৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৮১ কিলোমিটার নদী সংস্কারের কাজ চলমান থাকলেও টিআরএম চালু না হলে এ অর্থ অপচয়ের আশঙ্কা রয়েছে। নদী খননের পর দ্রুত পলি জমে আবার ভরাট হয়ে যাচ্ছে।’ তিনি বলেন, ইনস্টিটিউট অব ওয়াটার মডেলিংয়ের (আইডব্লিউএম) প্রস্তাব অনুযায়ী মাঘী পূর্ণিমার আগেই অন্তত একটি বিলে টিআরএম চালু করতে হবে। পাশাপাশি আমডাঙ্গা খাল দ্রুত প্রশস্ত ও পুনঃখননের দাবি জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে কমিটির পক্ষ থেকে পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রয়েছে মাঘী পূর্ণিমার আগেই কার্যকর টিআরএম চালু, অগ্রাধিকার ভিত্তিতে আমডাঙ্গা খালের পুনঃখনন ও প্রশস্তকরণ, জমি অধিগ্রহণের বাধা দূর করা এবং ভবদহ অঞ্চলের নদী-খাল থেকে কচুরিপানা, নেট-পাটা ও কৃত্রিম বাঁধ অপসারণ।
এ ছাড়া ২০১৬ সালের ৫ অক্টোবর টিআরএমবিরোধীদের চক্রান্তের অভিযোগে পানিবন্দী মানুষের আন্দোলনে তৎকালীন পুলিশের হামলা ও নির্যাতনের সুষ্ঠু বিচারের দাবিও জানানো হয়।
তবে পানি উন্নয়ন বোর্ড বলছে, পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে। পাউবোর যশোরের নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ কুমার ব্যানার্জী বলেন, ছয়টি নদীর ৮১ দশমিক ৫ কিলোমিটার পুনঃখননের কাজ চলছে। এবার ভবদহ বিলে পানি প্রায় তিন ফুট বেড়েছিল। ২১-ভেন্ট ভবদহ স্লুইসগেটের সব কপাট খোলা রয়েছে এবং সেগুলো দিয়ে পানি বের হচ্ছে। দ্রুত পানি নেমে যাবে বলে আশা করছেন তিনি।##
মোহাম্মদ বাবুল আকতার, মনিরামপুরঃ
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: রেল রোড, বাগেরহাট।
ইমেইল: press24masum@gmail.com
মোবাইল: 01834112222
All rights reserved ©2026 daily Uttal.com