
প্রচলিত কৃষির বৃত্ত ভেঙে নতুন কিছু করার তাগিদ তাঁর বরাবরের। আর সেই অদম্য কৌতুহল থেকেই এবার মণিরামপুরে সাফল্য কুড়িয়েছেন কৃষক খলিলুর রহমান। যশোরের মণিরামপুর উপজেলার তাহেরপুর গ্রামের এই কৃষক শখের বশে মাত্র ১০ শতাংশ জমিতে বিদেশি সবজি 'চাইনিজ ক্যাবেজ' চাষ করে বিপুল সাফল্য পেয়েছেন। পরীক্ষামূলক এই আবাদে বাম্পার ফলন মেলায় আগামীতে বড় পরিসরে বিদেশি এই সবজি চাষের স্বপ্ন বুনছেন তিনি।
খলিলুর রহমান মূলত একজন অভিজ্ঞ মিশ্র ফল ও সবজি চাষি। তাঁর মাঠে নিয়মিতই শোভা পায় ফুলকপি, পাতাকপি, বেগুন, টমেটো ও স্কোয়াশের মতো নানাবিধ সবজি। তবে চেনা ফসলের বাইরে নতুন নতুন জাত ও সবজি নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করাই তাঁর মূল আকর্ষণ। সম্প্রতি রাজধানী ঢাকায় সফরকালে প্রথম চাইনিজ ক্যাবেজ দেখে এটি চাষে আগ্রহী হন তিনি। এরপর বীজ সংগ্রহ করে নিজের ১০ শতাংশ জমিতে রোপণ করেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, খলিলুর রহমানের জমিতে সারি সারি সতেজ চাইনিজ ক্যাবেজ শোভা পাচ্ছে। দেখতে অনেকটাই পাতাকপির মতো হলেও এর গড়ন ও স্বাদে রয়েছে দারুণ বৈচিত্র্য।
নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে কৃষক খলিলুর রহমান বলেন, “নতুন কিছু চাষ করার প্রতি আমার সবসময়ই আলাদা একটা ঝোঁক থাকে। ঢাকায় প্রথম যখন এই চাইনিজ ক্যাবেজ দেখি, খুব ভালো লেগে যায়। সেখান থেকেই বীজ এনে পরীক্ষামূলকভাবে ১০ শতাংশ জমিতে লাগাই। ফলন যা পেয়েছি, তা প্রত্যাশার চেয়েও ভালো। সাধারণ পাতাকপির চেয়ে এর স্বাদ আলাদা। শাক হিসেবে ভাজি করে কিংবা চিংড়ি মাছ দিয়ে রান্না করলে এটি চমৎকার লাগে। বাজারে যদি ভালো দাম পাই, তবে আগামীতে আরও বড় পরিসরে এই ক্যাবেজ আবাদ করব।”
স্থানীয় উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা হাফিজুর রহমান মাঠ পরিদর্শন করে জানান, “খলিলুর রহমানের জমিতে চাইনিজ ক্যাবেজের যে বৃদ্ধি ও ফলন দেখা যাচ্ছে, তা সত্যিই আশাব্যাঞ্জক। নতুন কোনো ফসলের সঙ্গে এলাকার অন্য কৃষকদের পরিচিত করাতে এমন উদ্যোগ অত্যন্ত ফলপ্রসূ ভূমিকা রাখে। সঠিক জাত নির্বাচন, পরিচর্যা এবং বাজারজাতকরণের সুযোগ নিশ্চিত করা গেলে চাইনিজ ক্যাবেজ মণিরামপুরের কৃষি অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিতে পারে।”
কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রথাগত সবজির পাশাপাশি বিশ্বমানের ও নতুন সম্ভাবনাময় ফসলের আবাদ কৃষকের আয় এক ধাক্কায় বাড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ তৈরি করে। খলিলুর রহমানের মতো উদ্যমী কৃষকদের এই পথপ্রদর্শক উদ্যোগ স্থানীয় অন্য কৃষকদেরও প্রচলিত ধারার বাইরে এসে উচ্চমূল্যের ফসল চাষে অনুপ্রাণিত করবে।
এ বিষয়ে মণিরামপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জুনাঈদ হাবিব বলেন, “আমাদের দেশে চাইনিজ ক্যাবেজ তুলনামূলকভাবে নতুন একটি ফসল। স্থানীয় কৃষকেরা যখন এমন নতুন জাতের ফসল উৎপাদনে এগিয়ে আসেন, তখন কৃষিতে বৈচিত্র্য আসে। আমরা খলিলুর রহমানের জমি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছি। এর ফলন ও বাজারে চাহিদা সন্তোষজনক হলে অন্য কৃষকদের মাঝেও এই সবজি চাষ সম্প্রসারণের জন্য প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা দেওয়া হবে।”
মাত্র ১০ শতাংশের ক্ষুদ্র একখণ্ড জমিতে শুরু হলেও খলিলুর রহমানের এই উদ্যোগ এখন আর কেবল শখের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নেই; বরং তা মণিরামপুরের কৃষি ক্ষেত্রে এক নতুন ও অর্থবহ সম্ভাবনার প্রতীক হয়ে উঠেছে।
মোহাম্মদ বাবুল আকতার
মনিরামপুর,যশোর
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: রেল রোড, বাগেরহাট।
ইমেইল: press24masum@gmail.com
মোবাইল: 01834112222
All rights reserved ©2026 daily Uttal.com