
দুই যুগেও বদলায়নি দুর্ভোগ,নিজ অর্থায়নে কাঠের সেতু সংস্কার ও সংযোগ সড়ক নির্মাণ।
সরকার আসে,সরকার যায়—কিন্তু দুই যুগেও অবসান হয়নি বাগেরহাটের মোংলা উপজেলার সুন্দরবন ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের মানুষের দুর্ভোগ। দীর্ঘদিন ধরে বেহাল কাঠের সেতু দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হয়েছে স্থানীয় বাসিন্দাদের। পাশেই ৯০ মিটার দীর্ঘ ব্রিজ নির্মাণ করা হলেও জমি অধিগ্রহণসংক্রান্ত জটিলতায় তৈরি হয়নি সংযোগ সড়ক। ফলে ব্রিজটি ব্যবহার করতে না পেরে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ হাজারো মানুষকে পোহাতে হচ্ছে চরম ভোগান্তি। এমন পরিস্থিতিতে নিজ অর্থায়নে কাঠের সেতু সংস্কার ও ব্রিজের সংযোগ সড়কের কাজ করিয়ে দিয়েছেন স্থানীয় যুবদল নেতা মো. মামুন ফকির। তাঁর এই উদ্যোগে স্বস্তি ফিরেছে এলাকাবাসীর মধ্যে, কুড়াচ্ছেন প্রশংসা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সুন্দরবন ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের গুরুত্বপূর্ণ চলাচলের পথে কাঠের সেতুটি দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে ছিল। সেতুর বিভিন্ন অংশ নষ্ট হয়ে যাওয়ায় প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হতে হতো স্থানীয়দের। বিশেষ করে স্কুলপড়ুয়া শিক্ষার্থীদের যাতায়াত, অসুস্থ রোগীদের চলাচল এবং দৈনন্দিন প্রয়োজনে এলাকাবাসীকে নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হতো। বর্ষা মৌসুমে এ দুর্ভোগ আরও বেড়ে যেত।
অন্যদিকে, পাখিমারা নদীর ওপর ৯০ মিটার দীর্ঘ ব্রিজ নির্মাণ করা হলেও সংযোগ সড়ক না থাকায় সেটি পুরোপুরি ব্যবহার করা যাচ্ছিল না। দীর্ঘদিন ধরে সমস্যার সমাধান না হওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা তৈরি হয়। এমন পরিস্থিতিতে জনদুর্ভোগ লাঘবে এগিয়ে আসেন যুবদল নেতা মো. মামুন ফকির। ব্যক্তিগত অর্থায়নে তিনি কাঠের সেতু সংস্কার ও ব্রিজের সংযোগ সড়কের কাজ করিয়ে দেন। এতে স্থানীয়দের চলাচলে সাময়িক স্বস্তি ফিরবে বলে আশা করা হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. ইমদাদুল খান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে কাঠের সেতুটি বেহাল থাকায় তাঁদের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হতো। ব্রিজ নির্মাণ করা হলেও সংযোগ সড়ক না থাকায় সেটি কাজে আসছিল না। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের যাতায়াতে ভোগান্তি ছিল বেশি। মামুন ফকিরের ব্যক্তিগত উদ্যোগে সেতু সংস্কার ও সংযোগ সড়কের কাজ হওয়ায় তাঁরা উপকৃত হয়েছেন। জনস্বার্থে তাঁর এ উদ্যোগ প্রশংসনীয়।
সুন্দরবন ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. খানজাহান সরদার বলেন, “মামুন ফকির মানুষের দুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে নিজ অর্থায়নে কাঠের সেতু সংস্কার ও ব্রিজের সংযোগ সড়কের কাজ করিয়ে দিয়েছেন। এটি একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ। এলাকার মানুষের কল্যাণে তাঁর এ ধরনের কাজ অন্যদেরও জনসেবায় এগিয়ে আসতে উৎসাহিত করবে।”
মোংলা উপজেলা প্রকৌশলী মো. নাবিদুল হাসান বলেন, “পাখিমারা নদীর ওপর এলজিইডির মাধ্যমে ৯০ মিটার দীর্ঘ ব্রিজ নির্মাণ করা হয়েছে। তবে জমি অধিগ্রহণসংক্রান্ত জটিলতার কারণে ব্রিজের অ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণ করা সম্ভব হয়নি। অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে। খুব শিগগিরই অ্যাপ্রোচ সড়কের কাজ শুরু করা হবে।”
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা,সরকারি উদ্যোগে দ্রুত সংযোগ সড়কের কাজ সম্পন্ন করে ব্রিজটি পুরোপুরি ব্যবহার উপযোগী করা হবে। এতে শিক্ষার্থীসহ হাজারো মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের স্থায়ী অবসান ঘটবে।#
খান আশিকুজ্জামান,মোংলা
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: রেল রোড, বাগেরহাট।
ইমেইল: press24masum@gmail.com
মোবাইল: 01834112222
All rights reserved ©2026 daily Uttal.com