
কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে টুপটুপ রেস্ট্রো অ্যান্ড রিসোর্টের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ধুলোয় মিশে গেছে একটি হাসিখুসি পরিবারের স্বপ্ন। না ফেরার দেশে চলে গেছেন যশোরের মণিরামপুর উপজেলার একই পরিবারের চার সদস্য। আকস্মিক এই ট্র্যাজেডিতে মণিরামপুর পৌরসভার মোহনপুর গ্রামে এখন চলছে শুধু বুকফাটা কান্না আর মাতম।
নিহতরা হলেন—মণিরামপুর পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মোহনপুর গ্রামের মতিয়ার রহমানের ছেলে নাহিদুর রহমান তুহিন (৪০), তাঁর স্ত্রী আফসানা (৩০), এবং তাঁদের দুই কোমলমতি শিশুকন্যা সাত বছর বয়সী রোবাইনা ও তিন বছরের সুনাইনা।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, নাহিদুর রহমান তুহিন ঢাকার শ্যামলীর 'গ্র্যান্ড পাওয়ার লিমিটেড' নামের একটি প্রতিষ্ঠানে সফলতার সঙ্গে কর্মরত ছিলেন। স্ত্রী ও দুই কন্যাকে নিয়ে তিনি রাজধানীতেই বসবাস করতেন। কর্মব্যস্ততার ক্লান্তি দূর করতে এবং পরিবারের সদস্যদের একটু আনন্দ দিতে ১৬ থেকে ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত দুই রাতের জন্য কক্সবাজারের ইনানীতে ওই রিসোর্টের একটি কক্ষ বুকিং দিয়েছিলেন তুহিন। আনন্দভ্রমণের সেই আনন্দ মুহূর্তগুলোই যে তাঁদের জীবনের শেষ অধ্যায় হয়ে দাঁড়াবে, তা কে জানত!
পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, শনিবার (১৮ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে ঘুমন্ত পর্যটকদের আচ্ছন্ন করে হঠাৎই আগুন লাগে ইনানীর ওই রিসোর্টটিতে।
প্রায় দুই ঘণ্টার মরিয়া চেষ্টায় সকাল সাড়ে আটটার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে ফায়ার সার্ভিস। কিন্তু ততক্ষণে সব শেষ। অগ্নিকাণ্ডের পর ঘটনাস্থল থেকে ১০টি পোড়া মরদেহ উদ্ধার করা হয়। আগুন এতটাই তীব্র ছিল যে মরদেহগুলো মারাত্মকভাবে পুড়ে অঙ্গার হয়ে যায়। ফলে তাৎক্ষণিকভাবে তাদের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। স্বজনদের এখন একমাত্র ভরসা ডিএনএ পরীক্ষা।
এদিকে শনিবার সকালে রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়েই তুহিনের বড় ভাই জাহিদুর রহমান প্রিন্সসহ অন্য স্বজনেরা মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। কিন্তু প্রতিটি ফোনই ছিল নিষ্ক্রিয়।
এরপর থেকেই শুরু হয় হাহাকার ও উৎকণ্ঠা। কর্মস্থলের সহকর্মীরাও বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ নিতে শুরু করেন। বুকিংয়ের বিলের কপি অনুযায়ী ১৬ অক্টোবর থেকে রিসোর্টটিতে ওঠার কথা থাকলেও সেই অগ্নিকাণ্ড কেড়ে নেয় তাদের প্রাণ।
নিহত নাহিদুর রহমান তুহিন শুধু একজন সফল কর্মকর্তাই ছিলেন না, তিনি মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনোলজি অ্যান্ড পুলিশ সায়েন্স বিভাগের দ্বিতীয় ব্যাচের মেধাবী শিক্ষার্থী ছিলেন। তাঁর এমন আকস্মিক ও মর্মান্তিক প্রয়াণে বিশ্ববিদ্যালয় অঙ্গনেও নেমে এসেছে গভীর শোক।
একটি ছোট্ট অবকাশ যাপন কীভাবে একটি গোটা পরিবারকে চিরতরে নিস্তব্ধ করে দিতে পারে—তার এক নির্মম সাক্ষী হয়ে রইল ইনানীর এই অগ্নিকাণ্ড। মণিরামপুরের মোহনপুর গ্রামের আকাশে-বাতাসে এখন শুধু প্রিয়জন হারানোর দীর্ঘশ্বাস।##
মোহাম্মদ বাবুল আকতার,
মনিরামপুর, যশোর
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: রেল রোড, বাগেরহাট।
ইমেইল: press24masum@gmail.com
মোবাইল: 01834112222
All rights reserved ©2026 daily Uttal.com