বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামের আমীর বলেছেন, আপনাদেরকে সাবধান করে যাব কেউ যদি আকাশ থেকে কালো চিলের রং ধারণ করে কারও ভোট ছো মেরে নিতে চায়, ওর ডানাসহ তুলে ফেলবেন। আগের ১৫ বছর আমার ভোট আমি দিব্, তোমারটাও আমি দিব এটা অচল। আমার ভোট আমি দিব, তোমার ভোট তুমি দেও, আমার ভোটে হাত বাড়ালে খবর আছে। নিজেদের ভোটের পাহাড়াদার হতে হবে, অন্যের ভোটেরও পাহাড়াদার হতে হবে। নাগরিকদের পূর্ণ অধিকার যার ভোট সে দিবে, তার অধিকার রক্ষায় কাজ করতে হবে।”আমীরে জামায়াত আরও বলেন, ‘শুধু রাজার ছেলে রাজা হবে, রাজনীতির এই সংস্কৃতি আমরা পাল্টে দিতে চাই’ বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, ‘যার যোগ্যতা আছে, সেই দেশ পরিচালনা করবে।’আমীরে জামায়াত আরও বলেন, ‘শুধু রাজার ছেলে রাজা হবে, রাজনীতির এই সংস্কৃতি আমরা পাল্টে দিতে চাই’ বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, ‘যার যোগ্যতা আছে, সেই দেশ পরিচালনা করবে।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আমরা দুর্নীতির পাতা ধরে টানাটানি করবো না, আমরা দুর্নীতির শিকড় ধরে তুলে ফেলবো। কখনো কি শুনেছেন জামায়াতে ইসলামের কোনো কর্মী চাঁদাবাজি বা টেন্ডারবাজি করেছে? যারা এসব করছে, আমরা তাদের বিরুদ্ধেই দাঁড়িয়েছি। তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী ন্যায় ও ইনসাফের পক্ষে রয়েছে এবং ন্যায় ও ইনসাফ ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠন করতে চায়। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় বাগেরহাটের খানজাহান আলী (রহ.) মাজার মাঠে জেলা জামায়াত ইসলামী আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।এ সময় তিনি আরও বলেন, আজ জামায়াতের পক্ষে অসংখ্য নারী মাঠে কাজ করছেন, রাজপথে নেমেছেন। কারণ তারা বিশ্বাস করেন, জামায়াতে ইসলামীর হাতেই তাদের ইজ্জত ও জানমাল নিরাপদ থাকবে।ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, যে দলের ১১ জন শীর্ষস্থানীয় নেতাকে ঠান্ডা মাথায় হত্যা করা হয়েছে, হাজারের বেশি সহকর্মীকে দুনিয়া থেকে তুলে নেওয়া হয়েছে, আড়াই শতাধিক সহকর্মীকে আয়নাঘরে বন্দি রাখা হয়েছে, গুম ও খুন করা হয়েছে।”
জামায়াতের নেতাকর্মীদের বাড়িঘর বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, শেষ পর্যন্ত তাদের নিবন্ধন ও প্রতীক কেড়ে নিয়ে সংগঠনকেই নিষিদ্ধ করা হয়েছে, সেই দলটি হলো জামায়াতে ইসলামী। এই মজলুম সংগঠনকে শক্তিশালী করতে এবারের নির্বাচনে দাঁড়িপাল্লায় ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।বাগেরহাট জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা রেজাউল করিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জনসভায় আরও বক্তব্য রাখেন, জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি মো. নুরুল ইসলাম সাদ্দাম, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিপি মো. রিয়াজুল ইসলাম, ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সহসভাপতি শেখ কামরুল আলম,জামায়াত জোট মনোনীত বাগেরহাট-১ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাওলানা মশিউর রহমান খান, বাগেরহাট-২ আসনে শেখ মনঞ্জুরুল হক রাহাদ, বাগেরহাট-৩ আসনে মাওলানা আব্দুল ওয়াদুদ এবং বাগেরহাট-৪ আসনে অধ্যক্ষ আব্দুল আলীম। এছাড়া এন সিপির জেলার প্রধান সনন্বয়কারী এম, মোরশেদ সোহেলসহ,১০ দলীয় জোটের বিভিন্ন নেতারা,অন্যান্যের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন, সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
বাগেরহাটের উন্নয়ন ইস্যুতে জামায়াতের আমীর বলেন, বাগেরহাটের অনেক সমস্যা আছে, আবার অনেক সম্ভাবনাও রয়েছে। যুগযুগ ধরে বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলকে পিছিয়ে রাখা হয়েছে। ২০১৫ সালে বাগেরহাটের শরণখোলায় এসেছিলাম। সেখানে জমিনের আইল দিয়ে চলতে হয়েছে, ভাল একটা রাস্তা নেই। তিনবার পরেই গেলা, আবার উঠে চলতে লাগলাম। কেন বাগেরহাট কি দেশের বাইরে। আমরা আপনাদের কথা দিচ্ছি সুযোগ পেলে যে এলাকা পিছিয়ে রয়েছে, তার উন্নয়ন করা হবে। আমরা কোন এলাকা এমপি মন্ত্রির এলাকা তা দেখব না। আমরা যে এলাকার যা নায্য পাওনা তাই দিব।
জামায়াত ক্ষমতায় গেলে পররাষ্ট্র নীতি কেমন হবে সে বিষয়েও ব্যাখ্যা দিয়ে বর্ষিয়ান এই রাজনীতিবিদ বলেন, বিশ্বের প্রত্যেকটি দেশকে আমরা বন্ধু হিসেবে পেতে চাই, কিন্তু অতীতে বন্ধুর নামে কিছু প্রভুত্ব কায়েম হয়েছিল। আমাদের ঘাড়ে চেপে বসেছিল তারা, ৫৪ বছরের অনেক সম্ভাবনাকে ধুলিস্যাৎ করে দিয়েছিল আগামীতে এই জাতি আর কোনো আধিপত্য বাদ বরদাস্ত করবে না। আমরা সবাইকে বন্ধু হিসেবে পেতে চাই কাউকেই প্রভু হিসাবে দেখতে চাই না । অভিনয় করতে না আসেন আমরা সবার সাথে ভালো সম্পর্ক প্রতিবেশীদের সাথে ভালো প্রতিবেশীর সম্পর্ক আমরা রক্ষা করব। আমরা চাই আমাদের সাথেও যেন সেই সম্পর্কটা বজায় থাকে।
গণভোট ইস্যুতে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, গণভোটে হা মানেই হচ্ছে ফ্যাসিবাদ আর ফিরে না আসুক, হা মানে আজাদী, ১২ ডারিখের প্রথম ভোট হহে হা’র পক্ষে, হা জিতলে বাংলাদেশ জিতে যাবে।আমরা বাংলাদেশকে হেরে যেতে দিতে পারি না। ১২ তারিখে দুটি ভোট হবে প্রথম ভোটটি হবে গণভোটের পক্ষে। শুধু আমি না, মা-বাবা ভাই বোন সবাইকে হা‘র পক্ষে ভোট দিবেন। আর দ্বিতীয় ভোটটি হবে ন্যায় ও ইনসাফের পক্ষে। ১১ দল যে প্রতিক নিয়ে যেখানে এসেছে, আমরা সবাই এক। আমাদের পরিচয়, আমরা ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য। আপনারা ১২ তারিখ ব্যালটের মাধ্যমে জোটের প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার আহবান জানান তিনি।
সব শেষ বাগেরহাটের ৪টি আসনের প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে এবং তাদের জন্য দাড়িপাল্লা মার্কায় ভোট চেয়ে সমাবেশ শেষ করেন এই নেতা। #sk