সংখ্যালঘু নির্যাতন, সাধারণ মানুষের ঘের দখল, চাঁদা আদায় এবং ভোট প্রদানে হুমকিদাতাদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বাগেরহাট-২ আসনের ১১ দলীয় জোটের মনোনীত প্রার্থী শেখ মনজুরুল হক রাহাদ। তিনি বলেন, এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রেখে সবাই যেন নিরাপদে বসবাস ও সঠিকভাবে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারে, সে বিষয়টি নিশ্চিত করা হবে।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার মঘিয়া ইউনিয়নের সম্মান কাঠি ঈদগাহ মাঠে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এক নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মঘিয়া ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ জনসভায় সভাপতিত্ব করেন ইউনিয়ন সভাপতি মোঃ এনায়েতুল্লাহ এবং সঞ্চালনা করেন ইউনিয়ন সেক্রেটারি মাওলানা মোঃ আলী।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে শেখ মনজুরুল হক রাহাদ আরো বলেন, মঘিয়া ইউনিয়নের কিছু এলাকায় হিন্দু সম্প্রদায়ের পরিবারগুলোর ওপর নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে, যার ফলে তারা এখনো আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, গত ৫ তারিখের পর বেশ কয়েকজন সাধারণ মানুষের ঘের জোরপূর্বক দখল করে নেওয়া হয়েছে, যা তাদের জীবিকা নির্বাহে মারাত্মক প্রভাব ফেলেছে।
তিনি আরও বলেন, অনেকের বাগান থেকে জোরপূর্বক নারিকেল ও সুপারি পেড়ে নেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। পাশাপাশি একাধিক নিরীহ ব্যক্তির নামে মিথ্যা মামলা দায়ের করে হয়রানি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন পরিবারের কাছ থেকে চাঁদা আদায়ের বিষয়টিও জনসভায় আলোচনায় আসে।
শেখ মনজুরুল হক রাহাদ বলেন, এখনো অনেক পরিবার ভয় ও আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে। আসন্ন নির্বাচনে ভোট প্রদান থেকে বিরত রাখতে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে, যা সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের পরিবেশের জন্য উদ্বেগজনক।
জনসভায় বক্তারা মঘিয়া ইউনিয়নের চিকিৎসা ব্যবস্থার দুর্বলতা, মানসম্মত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও মাদ্রাসার অভাবের কথাও তুলে ধরেন।
জনসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর বাগেরহাট জেলা সেক্রেটারি শেখ মোহাম্মদ ইউনুস। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন অ্যাডভোকেট মোস্তাইন বিল্লাহ, মাওলানা আলতাফ হোসেন, কচুয়া থানা আমির মাওলানা রফিকুল ইসলাম, মাওলানা মিজানুর রহমান মল্লিক, মাওলানা শহীদুল আলম, শ্রমিক নেতা মাওলানা শাহেদুল ইসলাম এবং মঘিয়া ইউনিয়ন ছাত্রশিবিরের সভাপতি মোঃ মাসুদুর রহমান রানা সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।#am