সোমবার, ০৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৬:০৯ পূর্বাহ্ন

নওগাঁয় সরিষার বাম্পার ফলনের কৃষকের চোখে আনন্দ

‎এ.বি.এস রতন নওগাঁয় প্রতিনিধি: / ৯৮ টাইম ভিউ
আপডেট সময়: রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

 

অল্প খরচে অধিক লাভ ও ভোজ্যতেলের চাহিদা পূরণে জেলার প্রতিটি উপজেলায় দিন দিন বাড়ছে সরিষার চাষ। চলতি মৌসুমে উপজেলার বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে হলুদ ফুলে ভরে উঠেছে সরিষার ক্ষেত, যা একদিকে কৃষকদের স্বপ্ন বুনছে, অন্যদিকে প্রকৃতিপ্রেমীদের মন কেড়ে নিচ্ছে।

‎শীতের শেষ প্রান্তে সরিষার হলুদ ফুলে মোড়া মাঠ যেন দিগন্তজুড়ে হলুদের চাঁদরে ঢাকা পড়েছে। নানা রঙের পোশাকে ফুলপ্রেমীরা সরিষা ক্ষেতে ছবি ও সেলফি তুলতে ভিড় করছেন। মৌমাছি, প্রজাপতি ও নানা জাতের কীটপতঙ্গের আনাগোনা এবং মধু সংগ্রহের দৃশ্য পুরো পরিবেশকে করেছে আরও মনোমুগ্ধকর।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, ৮ টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত বদলগাছী উপজেলার বিভিন্ন মাঠে ছড়িয়ে ছিটিয়ে কৃষকরা আবাদ করেছে  সরিষার। চলতি মৌসুমে সরিষা আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ২৭৬০ হেক্টর জমি তবে বাস্তবে তার চেয়েও বেশি ৩ হাজার হেক্টর জমিতে চাষাবাদ হয়েছে। কৃষি প্রণোদনার আওতায় কৃষকদের মধ্যে বিনামূল্যে উচ্চ ফলনশীল জাতের সরিষা বীজ ও সার বিতরণ করা হয়। এর মধ্যে বারি-১৪, বারি-১৫ বারি-১৮ এবং বিনা- ৪- বিনা ১১ জাতের সরিষার আবাদ সবচেয়ে বেশি হয়েছে।

‎বিলাশবাড়ী ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের কৃষক আব্দুল রউফ  বলেন, “বর্তমানে ভোজ্যতেলের দাম আকাশচুম্বী। তাই নিজেদের চাহিদা মেটানো ও বাজারে বিক্রির উদ্দেশ্যে এ বছর এক একর জমিতে বারি-১৪ জাতের সরিষার আবাদ করেছি। ফলন বেশ ভালো হয়েছে। আশা করছি ভালো লাভ করতে পারবো।

‎অপর কৃষক মিজানুর রহমান খান বলেন, “অল্প সময়ে কম খরচে অধিক ফলনের আশায় প্রতি বছরের মতো এবারও পৌষের প্রথম সপ্তাহে এক একর বিশ শতাংশ জমিতে সরিষার চাষ করেছি। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলন সন্তোষজনক হয়েছে।

‎কোলা ইউনিয়নের ভান্ডারপুর  গ্রামের কৃষক লিটন হোসেন   জানান, তিনি এ বছর ১ একর ৩ শতাংশ জমিতে আগাম জাতের বারি-১৪ সরিষার চাষ করেছেন। তিনি বলেন, “আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলন খুব ভালো হয়েছে। আশা করছি ভালো দামে বিক্রি করতে পারবো। এছাড়া সরিষার শুকনো গাছ জ্বালানি হিসেবেও কাজে লাগে। আগামী ২০-২৫ দিনের মধ্যে সরিষা সংগ্রহের পর ওই জমিতে তিল আবাদ করবো।

‎এ বিষয়ে বদলগাছী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সাবাব ফারহান   বলেন, “চলতি মৌসুমে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় সরিষার বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে উচ্চ ফলনশীল জাতের সরিষার প্রদর্শনী প্লট স্থাপন করে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। পাশাপাশি বিনা চাষে সরিষা আবাদের জন্য নিয়মিত পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে, এবং রোগবালাই প্রতিরোধ করার জন্য আগাম  পরামর্শ ও উঠান বৈঠক করা হচ্ছে, আশা করি এ বছর সরিষা থেকে কৃষকরা উচ্চ ফলন পাবে।


এই বিভাগের আরও খবর