জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য মনোনয়ন দিতে যাচ্ছে সরকারি ও বিরোধীদল। দলীয় প্রার্থীদের যাচাই-বাছাইয়ের কাজ চলছে। বাগেরহাট-খুলনা সংরক্ষিত আসন থেকে আলোচিত প্রার্থীদের মধ্যে অন্যতম ফারজানা রশিদ লাবনী। ছাত্রদলের সাবেক এই নেত্রী খুলনা সরকারি মহিলা কলেজের দুইবার নির্বাচিত ভিপি ছিলেন। এরপর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট, কেন্দ্রীয় মহিলা দলের সহ-সাংস্কৃতিক সম্পাদকসহ বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি‘লাবণ্য’ (এনজিও) এর নির্বাহী পরিচালিকা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। একই সঙ্গে ফারজানা রশিদের দীর্ঘ সাংবাদিকতা ক্যারিয়ার রয়েছে।
একান্ত সাক্ষাতকারে ফারজানা রশিদ লাবনী।
প্রশ্নঃ
বাগেরহাট-খুলনা সংরক্ষিত মহিলা আসনে আপনি কেন প্রার্থী হচ্ছেন? মনোনীত হলে কী করবেন?
উত্তর: দেখুন, আমার জীবনের একটি বড় অংশ কেটেছে রাজনীতির মধ্য দিয়ে। মানুষের জন্য কাজ করার অভিজ্ঞতা আমার রয়েছে। মানুষের জন্য সহজে সুন্দরভাবে কাজ করতে হলে একটি প্ল্যাটফর্ম প্রয়োজন। সেই গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হলো সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্যের দায়িত্ব পালন করা।
খুলনা-বাগেরহাট আসন থেকে সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য হিসেবে মনোনীত হলে আমি প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের দিকনির্দেশনা সামনে রেখে এসব এলাকার স্থানীয় নেতৃত্বের সঙ্গে থেকে এলাকার উন্নয়নে কাজ করব। বিশেষ করে এলাকার মা-বোনদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে অগ্রাধিকার দেব। আমাদের প্রধানমন্ত্রীর কাজের মূল মন্ত্র হলো- সবার আগে দেশ। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন যদি আমাকে সেই সুযোগ দেন, তবে আমিও একই আদর্শ ও বিশ্বাসকে সামনে রেখে দেশ ও মানুষের কল্যাণে কাজ করতে চাই। একই সঙ্গে নারী শিক্ষা, নারীর ক্ষমতায়ন, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং মানবিক সহায়তার ক্ষেত্রগুলোতে আরও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার চেষ্টা করব।
,,,,, প্রশ্নঃ
আপনি কত বছর বয়সে বিএনপির রাজনীতিতে যোগ দেন?
উত্তর: ১৯৮৮ সালে ১৫ বছর বয়সে ছাত্রদলের একজন সক্রিয় কর্মী হিসেবেবিএনপিতে যোগদান করি।
প্রশ্নঃ
কেন বিএনপির রাজনীতিতে আসেন?
উত্তর: শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী গণতন্ত্রের জননী বেগম খালেদা জিয়াকে দেখে রাজনীতিতে আসার আগ্রহ জন্মে। আমার আব্বার কাছ থেকেও বিএনপির রাজনীতি সম্পর্কে অনেক কথা শুনেছি। ছোটবেলায় একটি প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অধিকার করি। তখন আমি খুব ছোট ছিলাম। সেই সময় শহীদ রাষ্ট্রপতির হাত থেকে পুরস্কার নেওয়ার সুযোগ হয়েছিল। পরে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সঙ্গে আন্দোলন-সংগ্রামের সময় বহুবার দেখা হয়েছে। ১৯৯৬ সালে ছাত্রদলের কনভেনশনে বক্তৃতা দেওয়ার পর তিনি আমাকে জড়িয়ে ধরেন। সে সময় প্রায় সব জাতীয় দৈনিকে আমাকে নিয়ে আলাদা সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল। ছাত্রদলের অনেকেই বিষয়টি জানেন। আমার জীবনে গণতন্ত্রের এই জননীর প্রভাব অপরিসীম।
প্রশ্নঃ
আপনার রাজনৈতিক ক্যারিয়ার সম্পর্কে কিছু বলুন।
উত্তর: আমি খুলনা সরকারি মহিলা কলেজের দুইবার নির্বাচিত ভিপি। রেকর্ডসংখ্যক ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছিলাম। এরপর তৎকালীন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি শহিদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি যিনি বর্তমানে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন তিনি আমাকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটি করে দেন। সেই কমিটিতে আমাকে ভাইস প্রেসিডেন্ট করা হয়। পরে দেশনেত্রীর নির্দেশে আমি ঢাকায় চলে আসি রাজনীতি করার জন্য। আমাকে কেন্দ্রীয় মহিলা দলের সহ-সাংস্কৃতিক সম্পাদিকা করা হয়। ওই কমিটির সভানেত্রী ছিলেন শিরিন সুলতানা। এরপর বিএনপিপন্থী সাংবাদিকতা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংগঠনের বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করি। ওয়ান-ইলেভেনের সময় সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে বিশেষ আদালতে বিচারকার্যের সময় প্রতিদিন উপস্থিত থেকেছি। অনেক সংবাদ সংগ্রহ করে তার কাছে পৌঁছে দিয়েছি। তিনি মুক্তির পর গুলশান অফিসে অনেকের সামনে আমাকে দেখিয়ে বলেছিলেন ‘ও আমার অনেক খোঁজখবর নিয়েছে।’ নেত্রীর সেই স্নেহমাখা কথাই ছিল আমার সবচেয়ে বড় পুরস্কার।
প্রশ্নঃ
আপনার পেশা কী?
উত্তর: আমি সমাজসেবা ও মানুষের জন্য কাজ করতে ভালোবাসি। বর্তমানে আমি ‘লাবণ্য’ (এনজিও) এর নির্বাহী পরিচালিকা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। একই সঙ্গে সাংবাদিকতা করছি। বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে কাজ করেছি। বর্তমানে একটি জাতীয় দৈনিকের বিজনেস এডিটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি।
প্রশ্নঃ
সদ্য অনুষ্ঠিত নির্বাচনে আপনার ভূমিকা কী ছিল?
উত্তর: আমি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্বাচনী আসনসহ জাতীয় পর্যায়ের অনেক নেতার আসনে সরাসরি কাজ করেছি। পাশাপাশি অন্যদেরও সংগঠিত করে বিভিন্ন আসনে কাজ করিয়েছি। এসব কর্মীদের অনেক ক্ষেত্রে নিজের অর্থায়নেও সহায়তা করেছি।
প্রশ্নঃ
আওয়ামী লীগের শাসনামলে আপনার অভিজ্ঞতা কেমন ছিল?
উত্তর: আমার স্বামী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তিনি খুলনার সাবেক মেয়র তৈয়েবুর রহমানের ভাগ্নে। আওয়ামী লীগের শাসনামলে এসব বিষয়ই যেন বড় অপরাধ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। আমার এনজিও প্রায় বন্ধ করে দেওয়া হয়। একসময় চাকরি থেকেও আমাকে বের করে দেওয়া হয়। কত রাত নিজের ঘরে ঘুমাতে পারিনি, এখানে সেখানে পালিয়ে থাকতে হয়েছে। শুধু আমার কারণে আমার আব্বার চাকরিও চলে যায়। অভাব-অনটন ও দুশ্চিন্তায় আমার আব্বার দুটি কিডনি নষ্ট হয়ে যায় এবং তিনি মারা যান। আমার স্বামীও বর্তমানে অসুস্থ। আর কত নির্যাতনের কথা শুনতে চান?