খুলনা-মোংলা মহাসড়কের বেলাই ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় বাস ও মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত বর সাব্বিরসহ তার পরিবারের ৯ জনের জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়েছে। শুক্রবার (১৩ মার্চ) জুম্মার নামাজ শেষে উপজেলা পরিষদ মাঠে এই জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী লায়ন ডক্টর শেখ ফরিদুল ইসলামসহ বাগেরহাট জেলা ও স্থানীয় প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা।
শুক্রবার (১৩ মার্চ) জুমার নামাজের পর মোংলা উপজেলা মাঠে জানাজা শেষে তাদের মোংলা পোর্ট পৌর কবরস্থানে দাফন করা হয়।”
রাতে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও রামপাল হাসপাতাল থেকে মরদেহগুলো এনে গোসল শেষে সকাল থেকে একে একে তাদের উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন মাঠে সারিবদ্ধভাবে রাখা হয়। আর কনে পক্ষের বাড়ি কয়রায় ও রামপালের চালকসহ ৫ জনকে তাদের নিজ নিজ এলাকায় দাফন করা হয়েছে। এদিকে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ থেকে মৃত ব্যক্তিদের প্রতিজনকে ৫ লাখ টাকা করে অনুদান প্রদান করেছে। সরকারী ভাবে আরো অনুদান দেয়া হবে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম।”
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বিকেলে খুলনা-মোংলা মহাসড়কের রামপাল উপজেলার বেলাই ব্রিজ এলাকায় একটি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। মোংলা থেকে খুলনার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়া একটি ষ্টাফবাহী বাসের সঙ্গে বরযাত্রীবাহী একটি মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই বেশ কয়েকজন নিহত হন এবং হাসপাতালে নেওয়ার পথে বাকিরা মারা যান। সব মিলিয়ে বর-কনেসহ মোট ১৪ জন এ দুর্ঘটনায় মৃত বরণ করে।
নিহতদের মধ্যে ৯ জনই ছিলেন মোংলা পোর্ট পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আব্দুর রাজ্জাকের পরিবারের সদস্য। নিহতরা হলেন-আব্দুর রাজ্জাক, তার দুই ছেলে সাব্বির ও আব্দুল্লাহ, এক মেয়ে ঐশী, ৪ নাতনি আরফা, ইরান, ফাহিম ও আলিফ। এছাড়া তার এক পুত্রবধু পুতুল বেগম নিহত হয়। কয়রা উপজেলার কনের দাদি, নানী, বোন ও কনে এবং রামপাল উপজেলার মাইক্রোবাস চালক এ দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান।”
মোংলায় বর সাব্বির ও তার বাবা আব্দুর রাজ্জাকসহ পরিবারের ৯ জনের মরদেহ শুক্রবার ভোর রাতে মোংলার শেহালাবুনিয়ায় শহরের ৮ নং ওয়ার্ডে নিজ বাড়িতে পৌঁছালে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। শুক্রবার জুমার নামাজের পর মোংলা উপজেলা মাঠে তাদের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজার নামাজ শেষে মোংলা পৌর কবরস্থানে তাদের দাফন সম্পন্ন হয়।”
মোংলায় একই পরিবারের ৯ জন নিহত হওয়ার মোংলা উপজেলা মাঠে নামাজে জানাজায় অংশ নেয় মোংলা-রামপাল বাগেরহাট-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রনালয়ের প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম, বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মঞ্জুরুল হক রাহাত, বাগেরহাট জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির এ্যাডভোকেট মাওলানা আঃ ওয়াদুদ, বাগেরহাট জেলা প্রশাসক গোলাম মোঃ বাতেন, জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মাদ হাছান চৌধুরী, সহকারী পুলিশ সুপার রিফাতুল ইসলাম, পৌর বিএনপির সভাপতি ও সাবেক পৌর মেয়র আলহাজ¦ মোঃ জুলফিকার আলী, সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান মানিক, উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোঃ আঃ মান্নান, সাধারণ সম্পাদক আবু হোসেন পনিসহ প্রায় অর্ধ লক্ষাধিক লোক এ জানাজায় অংশ নেয়।
এসময় মোংলা-রামপাল বাগেরহাট-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রনালয়ের প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, মোংলা-খুলনা সড়কে যে সড়ক দুর্ঘটনা হয়েছে এটি দুঃখজনক। এব্যাপারে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। এছাড়া সড়কে দুর্ঘটনা এড়াতে এখন থেকে কঠোর ভাবে কাজ করা হবে। সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতদের বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে প্রত্যেককে ৫ লক্ষ টাকা করে অনুদান প্রদান করা হয়েছে। এব্যাপারে মোংলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে তাদের সকল কাগজ পত্র জমা দিয়ে এ টাকা গ্রহন করার জন্য বলা হয়েছে। এছাড়া সরকারী ভাবে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে এবং নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে সহায়তা প্রদান করা করা হবে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম।এর আগে কনে মিতু, তার বোন, নানী ও দাদির মরদেহ খুলনার কয়রা উপজেলার নাকশা গ্রামে নেওয়া হয়। সেখানে শুক্রবার সকাল ১০টায় জানাজা শেষে তাদের নিজ বাড়িতে দাফন সম্পন্ন হয়েছে। মাইক্রোবাস চালককে দাফন করা হয় রামপালের তার নিজ বাড়িতে।#sm