৫০ বছরে সমুদ্রসম লবণাক্ত হতে পারে খুলনার পানি, সুন্দরবন ও কৃষি বড় ঝুঁকিতে উপকূলীয় অঞ্চলের পানি সংকট ও লবণাক্ততার ভয়াবহ ভবিষ্যৎ চিত্র উঠে এসেছে খুলনায় চলমান তৃতীয় উপকূলীয় পানি সম্মেলনে। পানি ও জলবায়ু বিশেষজ্ঞ ড. আইনুন নিশাত সতর্ক করে বলেছেন, আগামী ৫০ বছরের মধ্যে খুলনা শহরের পানির লবণাক্ততা সমুদ্রের পানির কাছাকাছি পৌঁছে যেতে পারে। এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কৃষি উৎপাদনে বড় ধরনের নেতিবাচক পরিবর্তন আসবে।”
রোববার খুলনার সিএসএস আভা সেন্টারে তিন দিনব্যাপী তৃতীয় উপকূলীয় পানি সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে গবেষণা ও মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা বিনিময় নিয়ে আয়োজিত ১৪টি বিষয়ভিত্তিক সেশনে এসব তথ্য তুলে ধরেন গবেষক, নীতিনির্ধারক, উন্নয়নকর্মী ও সাংবাদিকরা।”সম্মেলনের উদ্বোধনী প্লেনারি সেশনে ড. আইনুন নিশাত বলেন, লবণাক্ততা বাড়তে থাকলে সুন্দরবনে সুন্দরী গাছ কমে গিয়ে গরান গাছের আধিপত্য বাড়বে।
পাশাপাশি লবণসহিষ্ণু কীটপতঙ্গসহ জীববৈচিত্র্যে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা দেবে। একই সঙ্গে প্রচলিত কৃষি ফসল উৎপাদন অর্ধেকে নেমে আসার আশঙ্কাও জানান তিনি।”এই সংকট মোকাবিলায় উপকূল রক্ষায় বাঁধ দ্রুত মেরামত এবং ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে পৃষ্ঠস্থ পানির ব্যবহার বাড়ানোর ওপর জোর দেন ড. নিশাত। তিনি বলেন, পানির উৎসগুলো রক্ষা করা না গেলে ভবিষ্যতে এই অঞ্চলের মানুষকে টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।
সম্মেলনের বিভিন্ন সেশনে ডিস্যালিনেশন, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ, নিরাপদ পানির প্রযুক্তি, পানি দূষণ, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস ঝুঁকি, জিআইএসভিত্তিক ঝুঁকি বিশ্লেষণ, নগর পানি ব্যবস্থাপনা এবং নারী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ওপর পানি সংকটের বাড়তি চাপ নিয়ে আলোচনা হয়।
বক্তারা জানান, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে নিরাপদ পানির সংকট দিন দিন মানবিক ও স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াচ্ছে। বিকল্প না থাকায় অনেক মানুষ লবণাক্ত পানি ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে।
সম্মেলনে পানি ন্যায়বিচারকে মৌলিক মানবাধিকার হিসেবে উল্লেখ করে বক্তারা বলেন, সমন্বিত পানি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। একই সঙ্গে স্থানীয় থেকে জাতীয় পর্যায়ে নীতিগত দুর্বলতা কাটিয়ে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেয়ার আহŸান জানান তারা।
তৃতীয় উপকূলীয় পানি সম্মেলনে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও জাতীয়-আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।#sk