বাগেরহাটে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে যৌথ বাহিনীর অভিযানে শীর্ষ সন্ত্রাসী, মাদক ব্যবসায়ী ও মার্ডার মামলার আসামি শামীমকে তার স্ত্রী ও শাশুড়ীসহ আটক করা হয়েছে। অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাদক, দেশীয় অস্ত্র ও মাদক ব্যবসায় ব্যবহৃত সরঞ্জামাদি জব্দ করা হয়।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) দুপুর আনুমানিক ২টা থেকে ৪টা পর্যন্ত বাগেরহাট ২৩ আরই ব্যাটেলিয়ানের মেজর আশরাফ জামান ও লেফটেন্যান্ট জারিফের নেতৃত্বে বাগেরহাট সদর চিংড়ি গবেষণা ক্যাম্পের একটি দল বাগেরহাট শহরের নাগেরবাজার এলাকায় এই যৌথ অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযান চলাকালে মার্ডার মামলার পলাতক আসামি মোঃ শামীম হোসেন (৩৮), তার স্ত্রী মোসাঃ আদরী এবং শাশুড়ী মোসাঃ মমতাজ বেগমকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় শামীমের বসতবাড়ি থেকে ৫০০ পিস ইয়াবা, ৫০০ গ্রাম গাঁজা, বিপুল পরিমাণ মাদক সেবনের সরঞ্জাম, ৭টি দেশীয় অস্ত্রসহ মাদক ব্যবসায় ব্যবহৃত বিভিন্ন সামগ্রী উদ্ধার করা হয়।

জব্দকৃত মালামালের মধ্যে রয়েছে ১ লাখ ৬০ হাজার ১০৮ টাকা নগদ, ৫টি মোবাইল ফোন, ৮টি সিসি ক্যামেরা, ১টি হার্ডডিস্ক, ৩টি আইডি কার্ড, ২০টি লাইটার, ইয়াবা সেবনের বিভিন্ন উপকরণ এবং একটি খুর।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সূত্রে জানা যায়, গ্রেফতারকৃত শামীমের নামে বাগেরহাট থানায় একটি মার্ডার মামলাসহ মোট দুইটি মামলা চলমান রয়েছে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে পলাতক অবস্থায় নাগেরবাজার এলাকায় মাদক ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন।
গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
এদিকে যৌথ বাহিনীর এই অভিযানে এলাকাবাসী সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তারা জানান, মাদকের কারণে দীর্ঘদিন ধরে এলাকার যুবসমাজ ধ্বংসের মুখে পড়ছিল। প্রকাশ্যে মাদক কারবার চলায় সামাজিক অবক্ষয় বাড়ছিল বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।
এলাকাবাসীর ভাষ্য, এই অভিযানের মাধ্যমে শহরের নাগেরবাজার এলাকায় মাদক ব্যবসার লাগাম টানা সম্ভব হবে এবং এলাকা ধীরে ধীরে মাদকমুক্ত হবে বলে তারা আশা করছেন। তবে তারা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, গ্রেফতারকৃত মাদক ব্যবসায়ীরা অনেক সময় জামিনে মুক্ত হয়ে পুনরায় একই অপরাধে জড়িয়ে পড়ে।
এমন পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি যাতে না ঘটে, সে জন্য মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং স্থায়ী নজরদারি জোরদারের জন্য আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।