সোমবার, ০৪ মে ২০২৬, ০৪:২৮ অপরাহ্ন

ধারাবাহিক বৃষ্টিতে বাগেরহাটে প্রায় আড়াইহাজার হেক্টর জমির ধান পানিতে

বাগেরহাট প্রতিনিধি: / ৭১ টাইম ভিউ
আপডেট সময়: রবিবার, ৩ মে, ২০২৬

রোধ না হলে চরম ক্ষতি ধারাবাহিক বৃষ্টিতে বাগেরহাটে প্রায় আড়াই
হাজার হেক্টর জমির ধান পানিতে।

ধারাবাহিক বৃষ্টির কারনে বাগেরহাট জেলার প্রায় আড়াই হাজার হেক্টর জমির বোরো এবং ইরি ধান পানির নীচে পড়েছে। রোধ না হওয়ায় চরম হতাশায় পড়েছেন জেলার হাজারো কৃষক। বৈরী আবহাওয়া ও বৃষ্টির পূর্বাভাস পেয়ে আগাম ধান কাটা শুরু করলেও অবিরাম বৃষ্টির কারনে কাটা ধান নিয়ে আরো বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। বাগেরহাট জেলার ৭৩ হাজার ১৭১ হেক্টর জমিতে আবাদ হওয়া বোরো ধানের অর্ধেকেরও বেশি এখনও মাঠে থাকায় ক্ষয়ক্ষতির শঙ্কা বাড়ছে। মৌসুমের শেষ সময়ে সোনালি ধান ঘরে তোলার স্বপ্ন দেখছিলেন কৃষকরা। কিন্তু হঠাৎ টানা ৪ দিনের বজ্রসহ ভারী বৃষ্টি কৃষকের সেই স্বপ্নে ফেলেছে শঙ্কা। বিভিন্ন মাঠে এখনও পড়ে আছে কাটা ও অর্ধপাকা ধান। কোথাও জমে থাকা পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে ক্ষেত, কোথাও আবার রোদের অভাবে শুকানো যাচ্ছে না কাটা ধান। ধান নিয়ে বিপদ গ্রস্ত একাধিক কৃষক বলেন বৃষ্টির পূর্বাভাস পেয়ে অনেকে আগেভাগে ধান কাটা শুরু করলেও অধিকাংশ কৃষক শেষ করতে পারেননি। ফলে একদিকে মাঠে ধান নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা, অন্যদিকে কাটা ধান শুকাতে না পারায় বাড়ছে দুর্ভোগ। বাগেরহাট সদর উপজেলার গোটাপাড়া এলাকার কৃষক সাইফুল হক মনি বলেন. ধার কর্জ্য করে সার, বীজ, সেচ ও শ্রমিকের বাড়তি খরচে এমনিতেই উৎপাদন ব্যায় বেড়েছে। এর মধ্যে অতিবৃষ্টিতে ধান নষ্ট হলে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে তাদের। সদরের কৃষক রবিউল ও জেলার কচুয়া উপজেলার কৃষক ইয়াকুব আলী বলেন, ‘আমরা পৃককভাবে ৬ বিঘা জমিতে বোরো ধান চাষ করেছি, ফলন ভালো হয়েছে। কিন্তু হঠাৎ বৃষ্টির কারণে সব ধান কেটে উঠতে পারিনি। অর্ধেকের বেশি ধান জমিতে রয়েছে। লাখ টাকা খরচ করে এখন আমরা নিঃশ্ব হতে চলেছি। সরকারি সহায়তা ছাড়া এ ক্ষতি পুশিয়ে ওঠা সম্ভব না। আবার আগামী মৌসুমে ধানের চাষ করা কষ্টের হয়ে দাড়িছে। কৃষক আব্দুল ওহাব শেখ ও শান্তি রঞ্জন চৌধুরী বলেন. ‘দুইদিন ধান কেটেছি চারজন লোক নিয়ে। আকাশ মেঘলা থাকায় সেই ধানও রোদে শুকাতে পারিনি। আমার জমি অনেক নিচু, সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধ হয়ে পড়ে। ৩/৪দিন ধরে টানা বৃষ্টি হওয়ায় আমাদের জমির ধান পানির নিচে চলে গেছে, আমরা এখন কি করবো জানি না। বাগেরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক রমেশ চন্দ্র ঘোষ বলেন, ‘আবহাওয়া দ্রæত স্বাভাবিক না হলে অন্তত ১০ শতাংশ ধান ঝরে যেতে পারে। তবে বৃষ্টি কমে গেলে এবং দ্রæত রোদ উঠলে ক্ষতির পরিমাণ কিছুটা কমানো সম্ভব।#az


এই বিভাগের আরও খবর