মঙ্গলবার, ০২ জুন ২০২৬, ০১:০৭ পূর্বাহ্ন

আজ থেকে সুন্দরবনের প্রাণপ্রকৃতি সুরক্ষায় ৩ মাসের জন্য প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা

মাসুম হাওলাদার: / ৭৯ টাইম ভিউ
আপডেট সময়: সোমবার, ১ জুন, ২০২৬

পৃথিবীর বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন, সুন্দরবনের প্রাণপ্রকৃতি সুরক্ষায় ৩ মাসের
জন্য বনে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারী।

ইউনেস্কো ঘোষিত ওায়র্ল্ড হেরিটেজ সাইট ও পৃথিবীর বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনে প্রবেশে তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা আজ (১ জুন) থেকে শুরু হচ্ছে। সুন্দরবনের নিরাপদ জীববৈচিত্র্য ও বন্যপ্রাণী সুরক্ষায় রয়েল বেঙ্গল টাইগারসহ বন্যপ্রাণী, মৎস্য ও জলজ প্রাণীর প্রজনন নিশ্চিতে এই নিষেধাজ্ঞা আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত বলবৎ থাকবে। এই ৩ মাসের নিষেধাজ্ঞা চলাকালে সুন্দরবনে পর্যটকদের প্রবেশ নিষিদ্ধসহ সকল নদ-নদী, খাল, জলাশয়ে মাছ, কাঁকড়া ও মধু আহরণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে বন বিভাগ। সুন্দরবন বিভাগ জানিয়েছে, ১ জুন থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত ৩ মাস সুন্দরবনের বাঘসহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণী, মাছ ও জলজ প্রাণী প্রধান প্রজননের মৌসুম। এই সময়য়ে সুন্দরবনর অধিকাংশ বন্যপ্রণী ও মাছসহ জলজ প্রাণী ডিম ছাড়ে এবং বনের গাছপালার স্বাভাবিক পুণর্জন্ম বা রিজেনারেশন প্রক্রিয়া থাকে। ফলে ইউনেস্কো ঘোষিত ওায়র্ল্ড হেরিটেজ সাইট ও পৃথিবীর বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনের প্রানপ্রকৃতির নিরাপদ বিচরণ নিশ্চিত করতে প্রতিবছরের ন্যায় এবারও তিন মাসের জন্য কার্যকর হচ্ছে এ নিষেধাজ্ঞা। এই নিষেধাজ্ঞা কঠোরভাবে বাস্তবায়নের জন্য এরই মধ্যে বন্ধ করা হয়েছে জেলে, মৌয়াল ও পর্যটকদের নতুন পাস বা অনুমতিপত্র দেয়া। ফলে ১ জুন থেকে কার্যকর হওয়া নিষেধাজ্ঞার আগে বনজীবী ও পর্যটকদের সবাইকে সুন্দরবন ত্যাগের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তবে, এই সিদ্ধান্তে দুশ্চিয়ায় পড়েছেন সুন্দরবননির্ভর হাজার হাজার জেলে, মৌয়ালসহ বনজীবী। তাদের অভিযোগ, তিন মাস নিষেধাজ্ঞা থাকায় তাদের আয়- রোজগারের পথ বন্ধ হয়ে যায়। এসময়ে অনেকের সংসার চালাতে মাথায় ঋণের পাহাড় জমে যায়। তাছাড়া মহাজন ও বিভিন্ন জনের কাছ থেকে ধার নিয়ে দায়গ্রস্ত হয়ে পড়েন। চরম কষ্টে দিন পার করতে হয়। কিন্তু নিষিদ্ধকালে তারা পাননা কোনো সরকারি সহায়তাও। তাই নিষেধাজ্ঞার এই সময়ে সরকারি খাদ্য সহায়তা ও বিশেষ প্রণোদনা দেয়ার দাবি জানিয়েছেন তিন মাস কর্মহীন এসব বনজীবীরা। সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রেজাউল করিম চৌধুরী জানান, সুন্দরবনের নিরাপদ জীববৈচিত্র্য ও বন্যপ্রাণী সুরক্ষায় রয়েল বেঙ্গল টাইগারসহ বন্যপ্রাণী, মৎস্য ও জলজ প্রাণীর প্রজনন ক্ষমতা বাড়াতে ২০১৯ সাল থেকে এই নিষেধাজ্ঞা দিয়ে আসছে। প্রথমে দুই মাসের জন্য বন্ধ রাখা হলেও ২০২১ সালে মৎস্য বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ বাড়িয়ে তিন মাস করা হয়। এই সময়ে কাউকে সুন্দরবনে প্রবেশ করতে দেয়ার সুযোগ নেই। এই নিষেধাজ্ঞাকে সামনে রেখে গত ২৫ মে থেকে সুন্দরবনে প্রবেশে পর্যটকসহ কোন বনজীবীকেই নতুন করে অনুমতিপত্র (পাস) দেয়া বন্ধ করা হয়েছে। ৩১ মে সন্ধ্যার আগেই পর্যটকসহ সব ধরনের বনজীবীদের সুন্দরবন থেকে বের করে দেয়া হয়েছে। সুন্দরবননির্ভর জেলে পরিবারগুলোর জন্য খাদ্য সহায়তা ও প্রণোদনার একটি প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলে ক্ষতিগ্রস্তরা সহায়তা পাবেন বলেও জানান এই কর্মকর্তা। #


এই বিভাগের আরও খবর