রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬, ১০:৪৭ পূর্বাহ্ন

স্বাস্থ্যঝুঁকিতে ৫শতাধিক পরিবার শরণখোলায় ভয়াবহ জলাবদ্ধতা

মিজানুর রাকিব, শরণখোলা (বাগেরহাট) : / ২২
আপডেট সময়: শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২৬



বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলা সদরের কয়েকটি এলাকায় জলাবদ্ধতা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা দূষিত পানির কারণে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি বাড়ছে চর্মরোগ, ডেঙ্গু ও পানিবাহিত রোগের ঝুঁকি।
উপজেলা সদরের রায়েন্দা শহরতলীর উত্তর কদমতলা এলাকার আরকেডিএস বালিকা বিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকা, পুরোনো পোস্ট অফিস, শরণখোলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দক্ষিণ পাশ এবং রায়েন্দা বাজার দাখিল মাদ্রাসা সংলগ্ন এলাকায় দেখা গেছে জলাবদ্ধতার ভয়াবহ চিত্র। বাড়িঘর, রাস্তা ও উঠানে হাঁটুসমান পানি জমে রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে পানি আটকে থাকায় দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে চারদিকে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ডোবা-নালা ও জলাধার ভরাট করে অপরিকল্পিতভাবে বাড়িঘর নির্মাণ করায় পানি নিষ্কাশনের স্বাভাবিক পথ বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে প্রতি বছরই বর্ষা মৌসুমে এবং পরবর্তী সময়ে দীর্ঘদিন জলাবদ্ধতায় ভুগতে হয় এলাকাবাসীকে।
শনিবার (৮ আগস্ট) সরেজমিনে দেখা যায়, অনেক পরিবার বাড়ির উঠানে বাঁশের সাঁকো তৈরি করে চলাচল করছে। নিম্ন আয়ের মানুষ বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় জমে থাকা পচা পানি দিয়েই ধোয়া-মোছা ও অন্যান্য দৈনন্দিন কাজকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে।
রাহিমা বেগম নামে এক গৃহবধূ বলেন, “পুকুর আর উঠানে একই পানি। এই পানি দিয়েই ধোয়ামোছার কাজ করতে হয়। দুর্ভোগের শেষ কবে হবে জানি না।”
স্থানীয় রায়েন্দা বাজার ব্যবসায়ী মো. হুমায়ুন আহম্মেদ ও সাবেক শিক্ষক মো. ফারুক আহম্মেদ বলেন, “পচা পানির দুর্গন্ধে বসবাস করা কঠিন হয়ে পড়েছে। গোসল, কাপড় ধোয়া থেকে শুরু করে সব কাজ এই পানি দিয়েই করতে হয়। ফলে শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে চর্মরোগ বাড়ছে।”
ভুক্তভোগীদের দাবি, বর্তমানে প্রায় ২০০ থেকে ৩০০ পরিবার সরাসরি পানিবন্দি। তবে জলাবদ্ধতার কারণে অন্তত পাঁচ শতাধিক পরিবার নানা দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে। কাঁচা বসতঘরগুলো সাপ, কেঁচো ও পোকামাকড়ের আশ্রয়স্থলে পরিণত হয়েছে। একই সঙ্গে ডেঙ্গু ও পানিবাহিত রোগের আশঙ্কাও বেড়েছে।
শরণখোলা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. প্রিয় গোপাল বিশ্বাস বলেন, “দীর্ঘদিন জমে থাকা দূষিত পানি ব্যবহারে চর্মরোগ, চুলকানি ও ত্বকের নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে। পাশাপাশি ডেঙ্গু ও পানিবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিও থাকে। তাই সবাইকে বিশুদ্ধ পানি ব্যবহার ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
শরণখোলা উপজেলা ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অর্থিতা হালদার বলেন, জলাবদ্ধতার বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করা হবে।


এই বিভাগের আরও খবর