রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ০২:০১ পূর্বাহ্ন

মরিচ চাষে কৃষকের মুখে হাসি,বাজারে ন্যায্যমূল্য পাওয়ার আশা

আবু তাহের, বকশীগঞ্জ প্রতিনিধি। / ৭
আপডেট সময়: শনিবার, ৭ নভেম্বর, ২০২৬

জামালপুরের বকশীগঞ্জে চলতি রবি মৌসুমে মরিচ চাষে কৃষকদের আগ্রহ বেড়েছে। গত বছরের তুলনায় এবার মরিচ আবাদের লক্ষ্যমাত্রা বাড়িয়েছে কৃষি বিভাগ। অনুকূল আবহাওয়া থাকলে চলতি মৌসুমে উপজেলায় প্রায় ৬ হাজার মেট্রিক টন মরিচ উৎপাদনের আশা করা হচ্ছে। বিশেষ করে গত দুই বছর বন্যা না হওয়ায় উপজেলার চরাঞ্চলে মরিচ চাষের বিস্তৃতি ঘটেছে।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, গত মৌসুমে বকশীগঞ্জে ২৮০ হেক্টর জমিতে মরিচ আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। চলতি ২০২৬-২৭ রবি মৌসুমে তা বাড়িয়ে ৩৫০ হেক্টর করা হয়েছে। এ মৌসুমে প্রায় ৬ হাজার মেট্রিক টন মরিচ উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে।

উপজেলার সাধুরপাড়া, মেরুরচর ও নিলক্ষিয়া ইউনিয়নে মরিচের আবাদ বেশি হচ্ছে। এসব এলাকার চরাঞ্চলে কৃষকেরা অ্যাস্টার ওয়ান, ফায়ার হট, বিজলী প্লাস ও জলশ্বয় জাতের মরিচ চাষ করছেন।

স্থানীয় কৃষকদের মতে, গত দুই বছর বন্যা না হওয়ায় চরাঞ্চলে মরিচ চাষের উপযোগী পরিবেশ তৈরি হয়েছে। ভালো ফলন ও বাজারে ন্যায্যমূল্য পাওয়ার আশায় কৃষকেরা এ ফসলের দিকে ঝুঁকছেন।

নিলক্ষিয়া ইউনিয়নের কুশলনগর উত্তরপাড়া গ্রামের কৃষক সুলতান মিয়া বলেন, বন্যা না হওয়ায় এবার মরিচ চাষ ভালো হচ্ছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ভালো ফলনের আশা করছি।

মেরুরচর ইউনিয়নের ভাটি কলকিহারা গ্রামের কৃষক আবু মূসা বলেন, মরিচ চাষে লাভের সম্ভাবনা থাকায় আবাদ করছি। তবে অতিবৃষ্টি হলে ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।

সাধুরপাড়া ইউনিয়নের বাঙ্গালপাড়া গ্রামের কৃষক সোলাইমান মিয়া বলেন, বন্যা না হওয়ায় আমাদের এলাকায় মরিচের আবাদ বেড়েছে। ভালো দাম পেলে কৃষকেরা আরও উৎসাহিত হবেন।

তবে অতিবৃষ্টি ও জলাবদ্ধতা নিয়ে কৃষকদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। ভারী বৃষ্টিপাত হলে মরিচের গাছ ও ফলের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ভালো ফলন পাওয়া যাবে বলে আশা করছে কৃষি বিভাগ।

ভালো ফলন পেতে কৃষকদের রোগমুক্ত বীজ ও সুস্থ চারা নির্বাচন, জমি ভালোভাবে প্রস্তুত, নির্ধারিত দূরত্বে চারা রোপণ এবং পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি গোড়া পচা, ঢলে পড়া, পাতায় দাগ ও ফল পচা রোগ দেখা দিলে আক্রান্ত গাছ ও ফল অপসারণ করতে হবে। সাদা মাছি, থ্রিপস ও ফল ছিদ্রকারী পোকার আক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে নিয়মিত ক্ষেত পর্যবেক্ষণ এবং কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আমিনুল ইসলাম বলেন, চলতি মৌসুমে ৩৫০ হেক্টর জমিতে মরিচ আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রায় ৬ হাজার মেট্রিক টন উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। গত দুই বছর বন্যা না হওয়ায় কৃষকদের আগ্রহ বেড়েছে। তবে ভারী বৃষ্টিপাত হলে ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। কৃষকদের চারা রোপণ থেকে শুরু করে রোগবালাই দমনে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।


এই বিভাগের আরও খবর