বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬, ০১:৫৬ পূর্বাহ্ন

শেষ মুহূর্তের গোলে জাপানকে উড়িয়ে শেষ ষোলোয় ব্রাজিল

নিজস্ব প্রতিবেদক: / ৩৪ টাইম ভিউ
আপডেট সময়: মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬

সব শঙ্কা, স্নায়ুযুদ্ধ আর নাটকীয়তার অবসান ঘটল শেষ মুহূর্তের এক জাদুকরী স্পর্শে। সবাই যখন ধরে নিয়েছিল নির্ধারিত ৯০ মিনিটের ১-১ সমতা ভাঙা অসম্ভব এবং ম্যাচটি নিশ্চিতভাবেই অতিরিক্ত ৩০ মিনিটে গড়াচ্ছে। ঠিক তখনই যোগ করা সময়েরে পঞ্চম মিনিটে হিউস্টনের গ্যালারিকে উল্লাসে মাতালেন গাব্রিয়েল মার্তিনেল্লি। তাঁর এই নাটকীয় গোলেই জাপানকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় জায়গা করে নিল ব্রাজিল। পুরো ১০০ মিনিটের এই রুদ্ধশ্বাস লড়াই সেলেসাও ভক্তদের মনে থাকবে বেশ।”

অথচ ম্যাচের প্রথমার্ধের গল্পটা ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। ম্যাচের ২৯ মিনিটে ব্রাজিলের দানিলোর একটি ভুল পাস থেকে বল কেড়ে নিয়ে জাপানকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দিয়েছিলেন সানো। গোল পাওয়ার পরেই জাপানের কোচ হাজিমে মোরিয়াসু তাঁর রক্ষণভাগকে নিশ্ছিদ্র ৫-৪-১ ফরমেশনের এক দেয়ালে রূপান্তর করেন। জাপানি ডিফেন্সের এই কঠোর পাহাড়ায় ব্রাজিলের অন্যতম সেরা তারকা ভিনিসিয়ুস জুনিয়র পুরোপুরি বোতলবন্দী হয়ে পড়েছিলেন, যার ফলে প্রথমার্ধে মাঠ ছাড়ার সময় ব্রাজিলের ডাগআউটে ছিল শুধুই হতাশার ছায়া।”ম্যাচের শুরুতে জাপানকে চেপে ধরেছিল ব্রাজিল। শুরু থেকেই ব্রাজিল খেলছে দাপুটে ফুটবল। হাইড্রেশন ব্রেকের আগ পর্যন্ত বল দখল নিজেদের পায়ে রেখে আক্রমণ সাজিয়েছে সেলেসাওরা। তবে এশিয়ান পরাশক্তিদের রক্ষণ ভাঙতে পারেননি আনচেলত্তির শিষ্যরা।

ফলে বল দখল ও আক্রমণে এগিয়ে থাকলেও গোলের দেখা পায়নি ব্রাজিল। ভিনিসিয়ুস এবং মাথেউস কুনিয়া কয়েকবার গোলের সুযোগ পেলেও সেসব কাজে লাগাতে পারেননি। এদিকে ম্যাচের ২৯ মিনিটেই জালের দেখা পায় জাপান। মাঝমাঠে বল পেয়ে ব্রাজিলের ডিফেন্ডারদের নাচিয়ে ড্রিবলিংয়ের চমৎকার এক প্রদর্শনী দেখান এই সানো। একে একে প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়দের বোকা বানিয়ে বক্সের ঠিক বাইরে থেকে নেন বুলেট গতির এক দুর্দান্ত কোণাকুণি শট! অ্যালিসন বেকার ডানদিকে ঝাঁপিয়ে পড়লেও তা ঠেকাতে পারেননি।

জাপানের জার্সি গায়ে কাইশু সানোর প্রথম আন্তর্জাতিক গোল এটি। মাঝমাঠে ব্রাজিল বল হারানোর পর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুর্দান্ত এক দৌড়ে গোল করেন সানো। এদিকে পিছিয়ে পড়ার পর থেকেই ছন্দ হারায় ব্রাজিল। আর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিতে শুরু করে জাপান। ছন্দময় ফুটবলে ব্রাজিলকে চেপে ধরে দলটি। শেষ পর্যন্ত এক গোলের লিড নিয়েই বিরতিতে যায় দলটি।”দ্বিতীয়ার্ধে খোলস ছেড়ে বের হয় পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা, যার শুরুটা হয়েছিল ম্যাচের ৫৩তম মিনিটে। কাসেমিরোর একটি দুর্দান্ত ডাইভিং হেড জাপানের গোললাইন থেকে ক্লিয়ার হওয়ার পর মুহূর্তেই পাল্টা আক্রমণে উঠেছিল জাপান, কিন্তু সে যাত্রায় ব্যবধান দ্বিগুণ করতে পারেনি তারা। এর ঠিক দুই মিনিট পর, ৫৬ মিনিটে আসে ব্রাজিলের বহুল কাঙ্ক্ষিত সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। গাব্রিয়েল মাগালাইসের এক নিখুঁত ক্রসে দুর্দান্ত এক হেডে জাপানের জাল কাঁপিয়ে ব্রাজিলকে ১-১ সমতায় ফেরান কাসেমিরো।

সমতায় ফেরার পর সেলেসাওদের আক্রমণের ধার আরও বাড়ে। ৫৮মিনিটে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র জাপানি ডিফেন্ডারদের পায়ের জাদুতে নাচিয়ে চমৎকার ফ্লিক করলেও তা গোলরক্ষক সুজুকির হাত ছুঁয়ে পোস্টে লেগে ফিরে আসে।”

ম্যাচের শেষ আধঘণ্টায় কোচ কার্লো আনচেলত্তি তাঁর চতুর কৌশলের পরিচয় দেন। ৬৫ মিনিটে মাঠের ছক বদলে মাথিয়াস কুনিয়ার পরিবর্তে তিনি মাঠে নামান গাব্রিয়েল মার্তিনেল্লিকে। এনদ্রিক এবং রায়ানের গতি জাপানি ডিফেন্সকে ক্রমান্বয়ে কোণঠাসা করতে শুরু করে, যার ফলে একের পর এক ফাউল করে হলুদ কার্ড দেখতে হয় জাপানের জুন্নোসুকে সুজুকিকে।”৮৫ মিনিটে রায়ানের ফ্রি-কিক এবং পরবর্তীতে ব্রুনো গিমারেসের ডান পায়ের আউটসাইড দিয়ে নেওয়া এক চিপ লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। ম্যাচের ৮৯ মিনিটে ব্রাজিলের শিবিরে বড় ধাক্কা আসে, যখন কাসেমিরো কুঁচকির ইনজুরিতে পড়ে মাঠ ছাড়েন এবং তাঁর পরিবর্তে মাঠে আসেন ফাবিনিও। যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে এনদ্রিক একটি কর্নার আদায় করেন এবং সেখান থেকে ফাবিনিওর হেড গোলবারের ওপর দিয়ে চলে গেলে ব্রাজিলিয়ান সমর্থকদের অপেক্ষা আরও বাড়ে।”অবশেষে আসে সেই মহানাটকীয় পঞ্চম। মাঝমাঠে পুরো ম্যাচ জুড়ে কিছুটা বিবর্ণ থাকা ব্রুনো গিমারেস নিজের সেরা পাসটি বাড়ান গাব্রিয়েল মার্তিনেল্লির উদ্দেশ্যে। জাপানি ডিফেন্সের ফাঁক গলে মার্তিনেল্লি অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় দারুণ এক স্পর্শে দূরের পোস্ট দিয়ে বল জালে জড়িয়ে দেন। জাপানি গোলরক্ষক সুজুকির কিছুই করার ছিল না।রেফারি শেষ বাঁশি বাজানো পর্যন্ত ১০০ মিনিটের এই লড়াইয়ে জাপান আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। ঘুরে দাঁড়ানো জয়ে কার্লো আনচেলত্তির কৌশলের জয়গান গেয়েই মাঠ ছাড়ে ব্রাজিল। তাও নেইমারকে ছাড়াই।#


এই বিভাগের আরও খবর