ই-সিগারেট, ভ্যাপ, নিকোটিন পাউচ ও হিটেড টোব্যাকো প্রোডাক্টসহ (এইচটিপি) সব ধরনের উদীয়মান নিকোটিন পণ্যের উৎপাদন, আমদানি, রপ্তানি, মজুত, বিক্রয় ও ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধের দাবিতে নওগাঁয় এক মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। জাতীয় তামাকমুক্ত দিবস উপলক্ষে শিশু-কিশোর ও তরুণ প্রজন্মকে নিকোটিনের ভয়াবহ আসক্তি থেকে বাঁচাতে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধন এবং কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান বক্তারা।
রোববার (১১ অক্টোবর) সকালে শহরের উকিলপাড়ায় ন্যাশনাল মডেল স্কুলের সামনে এ মানববন্ধনের আয়োজন করে ‘প্রজন্ম মানবিক অধিকার উন্নয়ন কেন্দ্র’। এতে সহায়তা করে ‘প্রজন্মের আলো’ ও ‘প্রজন্মের মেলা’। এবারের মানববন্ধনের প্রতিপাদ্য ছিল—‘ই-সিগারেট/ভ্যাপ ও নিকোটিন পণ্য নিষিদ্ধ করুন, শিশু-তরুণদের রক্ষা করুন।’
প্রজন্ম মানবিক অধিকার উন্নয়ন কেন্দ্র ও রহমান স্কিল ডেভেলপমেন্ট ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক তাহেরা এনায়েত করিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ন্যাশনাল মডেল স্কুলের পরিচালক মো. সহিদ প্রামানিক। প্রধান আলোচক ছিলেন বিশিষ্ট সমাজকর্মী ও শিক্ষাবিদ অধ্যক্ষ আব্দুর রহমান রিজভী। এছাড়া বক্তব্য দেন সংস্থাটির পরিচালক ও ‘সাপ্তাহিক প্রজন্মের আলো’র ব্যবস্থাপনা সম্পাদক হাফেজ আব্দুল্লাহ আলমাস বিন রহমান তানভীর।
মানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মো. সহিদ প্রামানিক বলেন,
”সন্তানদের ক্ষতিকর ধূমপান ও নিকোটিনের আসক্তি থেকে বাঁচাতে ই-সিগারেট, ভ্যাপ ও নিকোটিন পাউচের মতো পণ্যের উৎপাদন ও আমদানি অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহারে কোনো সুফল নেই, বরং এটি স্বাস্থ্য ও অর্থনীতির চরম ক্ষতি সাধন করে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুরক্ষিত রাখতে সমাজকে ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা পালন করতে হবে।”
প্রধান আলোচক অধ্যক্ষ আব্দুর রহমান রিজভী বলেন,
”জাতীয় তামাকমুক্ত দিবস সরকারিভাবে উদযাপনের পাশাপাশি টেকসই তামাক নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি জোরদার করা এখন সময়ের দাবি। নতুন ধরনের নিকোটিন পণ্যের বিস্তার জনস্বাস্থ্যের জন্য গুরুতর হুমকি। এসব পণ্যে শুধু করারোপ না করে সরাসরি নিষিদ্ধকরণের নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি।”
তিনি আরও কিছু নির্দিষ্ট প্রস্তাব তুলে ধরে বলেন:
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ১০০ মিটারের মধ্যে তামাকজাত দ্রব্য বিক্রি বন্ধে শিক্ষা কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় আইনগত ক্ষমতা দেওয়া হোক।
জেলা ও উপজেলার মাসিক সমন্বয় সভায় ই-সিগারেট ও নতুন নিকোটিন পণ্যের ক্ষতিকর দিক নিয়ে নিয়মিত আলোচনা নিশ্চিত করতে হবে।
প্রাথমিক শিক্ষা থেকে শুরু করে সব স্তরের পাঠ্যপুস্তকে এসব নতুন পণ্যের স্বাস্থ্যঝুঁকি বিষয়ক সচেতনতামূলক বিষয় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
সংস্থাটির পরিচালক হাফেজ আব্দুল্লাহ আলমাস বিন রহমান তানভীর বলেন,
”ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বাঁচাতে তামাক নিয়ন্ত্রণে সরকারের আগের অর্জনের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে সব ধরনের উদীয়মান নিকোটিন পণ্য নিষিদ্ধে দ্রুত আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন।”
সভাপতির বক্তব্যে তাহেরা এনায়েত করিম বলেন,
”ক্যান্সারসহ বিভিন্ন অসংক্রামক ব্যাধিতে হাসপাতালগুলোতে রোগীদের চাপ দিন দিন বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে নতুন প্রজন্মকে আসক্তি মুক্ত রাখতে প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপে জোর দিতে হবে। সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি কঠোর আইনি প্রয়োগের মাধ্যমেই কেবল এর বিস্তার রোখা সম্ভব।”
মানববন্ধনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ব্যবসায়ী মো. শওকত আলী ও মো. সেলিম হোসেন, ন্যাশনাল মডেল স্কুলের জ্যেষ্ঠ শিক্ষক মনজুর এলাহী, ফরহাদ হোসেন, নজরুল ইসলাম, নুর ইসলাম, আব্দুল হাকিম, নাঈম ইসলাম, আব্দুল কুদ্দুস এবং ‘প্রজন্মের আলো’ ও ‘প্রজন্মের মেলা’র ডিজিটাল কন্টেন্ট এডিটর আব্দুল্লাহসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।