সুন্দরবনের বুক থেকে বন্যপ্রাণী ও মৎস্য সম্পদ ধ্বংসকারী চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে বড় সাফল্য অর্জন করেছে পূর্ব সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জ বন বিভাগ। বনে অবৈধভাবে অনুপ্রবেশ করে হরিণ শিকার ও বিষাক্ত ফাঁদ পাতার অপরাধে ৬ চোরা শিকারিকে হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়েছে।
শনিবার বিকেলে সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জের চরাপুটিয়া টহল ফাঁড়ি এলাকার হলদী খালী খাল থেকে তাঁদের গ্রেফতার করা হয়। এ সময় শিকারিদের কাছ থেকে হরিণ শিকারের বিপুল পরিমাণ মালা ফাঁদ,নদী ও খালের জীববৈচিত্র্য ধ্বংসকারী নিষিদ্ধ খালপাটা জাল এবং অপরাধের কাজে ব্যবহৃত ২টি কাঠের নৌকাও জব্দ করা হয়।”
মোংলা চাঁদপাই রেঞ্জ সূত্রে জানায়, বিকেল ৫টার দিকে চরাপুটিয়া এলাকায় একদল হরিণ শিকারী প্রবেশ করছে এমন তথ্য আসে বন বিভাগের কাছে। এই তথ্যের সূত্রধরে টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফরেস্টার আসাদুজ্জামানের নেতৃত্বে বনকর্মীদের একটি আভিযানিক দল হলদী খালী খাল এলাকায় টহলে যায়।
টহলকালে সুন্দরবনে সর্বসাধারণের প্রবেশের ওপর চলমান সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কিছু দুর্বৃত্তকে বনের গহীনে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাঘুরি করতে দেখতে পায় বনরক্ষীরা।”বনকর্মীরা দূর থেকে লক্ষ্য করে অনুপ্রবেশকারী চক্রটি নিষিদ্ধ খালপাটা জাল দিয়ে বনের সংরক্ষিত খালে মাছ নিধনের পাশাপাশি সুন্দরবনের মায়াবী হরিণ শিকারের উদ্দেশ্যে বনের কেওড়া ও গোলপাতা গাছের ঝোপের আড়ালে অভিনব কায়দায় ফাঁদ পাতছে। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার সাথে সাথে বনকর্মীরা কৌশলগত অবস্থান নিয়ে চারদিক থেকে ঘেরাও করে অভিযান চালায়। বন বিভাগের উপস্থিতি টের পেয়ে শিকারিরা নৌকা নিয়ে দ্রুত পালানোর চেষ্টা করলে বনরক্ষীদের তৎপরতায় ঘটনাস্থল থেকেই ৬ চোরা শিকারীদের হাতেনাতে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়।” বন বিভাগের হাতে আটক হওয়া এই চক্রের ৬ সদস্যই পেশাদার চোরা শিকারি বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে। গ্রেফতারকৃতরা হলো, মোংলা থানার ছবেদখান এলাকার বাসিন্দা হেজবুলাহ খন্দকার, সামছুল হক, তমেজ শেখ, সবুজ শেখ, সউদ শেখ ও নাহিদ শেখ। তাদের সকলের বাড়ি চিলার জয়মনি বিভিন্ন এলাকায়।”
চাঁদপাই রেঞ্জ কর্মকর্তা (এসিএফ) দিপন চন্দ্র জানান, কিছু অসাধু লোক নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বনে ঢুকে হরিণ শিকার ও নিষিদ্ধ জাল দিয়ে মাছ ধরার চেষ্টা করছিল। আমাদের স্মার্ট প্যাট্রোলিং ও চরাপুটিয়া ফাঁড়ির তৎপরতায় এই চক্রটিকে হাতেনাতে ধরা সম্ভব হয়েছে। ধৃতদের বিরুদ্ধে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইনে কঠোর মামলা দায়ের করা হচ্ছে। জব্দকৃত নৌকা, নিষিদ্ধ জাল ও হরিণ ধরার ফাঁদসসহ অন্যান্য সরঞ্জাম চরাপুটিয়া ফাঁড়ি হেফাজতে রাখা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে রবিবার সকালে আসামিদের বাগেরহাট ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হবে।#sm