সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:১৭ পূর্বাহ্ন

মণিরামপুরে শারদীয় দুর্গোৎসবের প্রস্তুতি সম্পন্ন:১০৪ মণ্ডপে বইছে আনন্দের জোয়ার

​ মণিরামপুর (যশোর)প্রতিনিধি : / ২৮
আপডেট সময়: রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬

মণিরামপুরে শারদীয় দুর্গোৎসবের প্রস্তুতি সম্পন্ন: ১০৪ মণ্ডপে বইছে আনন্দের জোয়ার


শরতের আকাশ জুড়ে কাশবনের দোলা আর পূবালী বাতাসে ঢাকের বাদ্যের মৃদু গুঞ্জন—সব মিলিয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসবের ক্ষণগণনা শুরু হয়েছে। যশোরের মণিরামপুর উপজেলায় এবার ১০৪টি পূজা মণ্ডপে উদযাপিত হতে যাচ্ছে শারদীয় দুর্গোৎসব। ইতোমধ্যে প্রতিটি মন্দিরে প্রতিমা শিল্পীদের নিপুণ হাতের ছোঁয়া ও সাজসজ্জার কাজ প্রায় শেষের পথে। আগামী ১৬ অক্টোবর মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে এই মহামিলনোৎসব।
​উৎসবের সার্বিক প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা প্রসঙ্গে মণিরামপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোহাম্মদ সম্রাট হোসেন বলেন, “প্রতি বছরের মতো এবারও উপজেলার প্রতিটি মণ্ডপে শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে শারদীয় দুর্গোৎসব অনুষ্ঠিত হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্কতায় নিয়োজিত রয়েছে।”
​উৎসবের নিরাপত্তা জোরদারে মণিরামপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আবু সাঈদ জানান, “শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে শারদীয় দুর্গোৎসব উদযাপনের লক্ষ্যে পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন থাকবে। যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে পুলিশ প্রশাসন অত্যন্ত তৎপর রয়েছে।”
​উৎসবকে সার্বিকভাবে সফল করতে দিনরাত কাজ করে চলেছেন আয়োজকরা। মণিরামপুর উপজেলা পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের সভাপতি তুলসী বসু ও সাধারণ সম্পাদক তরুণ কুমার শীল যৌথভাবে জানান, উপজেলার সবকটি মণ্ডপে শান্তিপূর্ণভাবে উৎসব সম্পন্ন করতে প্রশাসন ও স্থানীয় কমিটির সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করা হচ্ছে।
​এদিকে সরেজমিনে মণিরামপুর পৌরসভার শহরের গাংড়া দুর্গা মন্দিরে গিয়ে দেখা যায়, উৎসবের প্রায় সব প্রস্তুতিই সম্পন্ন। মন্দির কমিটির সভাপতি তাপস মজুমদার ও সাধারণ সম্পাদক বিপুল কুমার দেবনাথ জানান, “এবার আমাদের পূজা মণ্ডপে প্রায় ৬০টি প্রতিমা তৈরি করা হয়েছে। ভক্তদের উপচে পড়া ভিড় সামলাতে এবং উৎসবকে বর্ণিল করতে আমরা সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিয়েছি।”
​স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও বইছে আনন্দের বন্যা। মনিরামপুর বাজারের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী দীপ কুমার দাস আবেগাপ্লুত কন্ঠে বলেন, “পূজার এই দিনগুলোর জন্য আমরা সারা বছর অপেক্ষায় থাকি। আশা করছি, ভক্ত ও দর্শনার্থীদের উপস্থিতিতে এবারের শারদীয় দুর্গোৎসব অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে আরও অনেক বেশি জাঁকজমকপূর্ণ ও আনন্দঘন হবে।”
​মায়ের আগমনী বার্তায় এখন মুখরিত মণিরামপুরের প্রতিটি জনপদ। সব শঙ্কা উড়িয়ে জাতি, ধর্ম নির্বিশেষে এই উৎসব রূপ নিক সার্বজনীন মহামিলনে—এমনটাই প্রত্যাশা মণিরামপুরবাসীর।#

মোহাম্মদ বাবুল আকতার,
মনিরামপুর,যশোর


এই বিভাগের আরও খবর