সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৪০ পূর্বাহ্ন

একই পরিবারের ৪জন নিহত হওয়ার খবরে শোকে স্তব্ধ গোটা মনিরামপুর

মোহাম্মাদ বাবুল আকতার, মনিরামপুর (যশোর) / ২০
আপডেট সময়: রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬

কক্সবাজার রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড:
একই পরিবারের ৪জন নিহত হওয়ার খবরে শোকে স্তব্ধ গোটা মনিরামপুর
“রিসোর্টের টয়লেট থেকে জড়াজড়ি অবস্থায় চারজনের দন্ধ লাশ উদ্ধারের পর আমরা ধরে নিয়েছি, তুহিন ভাই, তাঁর স্ত্রী ও দুই মেয়ে বেঁচে নেই

কক্সবাজারের ইনানীতে টুপটুপ রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের মধ্যে যশোরের মনিরামপুরের একই পরিবারের চারজন রয়েছেন। তাঁরা হলেন, মনিরামপুর উপজেলা হাসপাতাল মোড়সংলগ্ন মোহনপুর এলাকার মতিয়ার রহমানের ছেলে নাহিদুর রহমান তুহিন (৪১), তাঁর স্ত্রী আফসানা তানজি (৩৬) এবং তাঁদের দুই মেয়ে রুজাইনা ইনায়া (৭) ও সুনাইনা ইহানা (৩)। মনিরামপুর খানা-পুলিশ ও নিহত তুহিনের বড় ভাই জাহিদুর রহমান গ্রিস তাঁদের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন। রোববার সন্ধ্যা ছয়টার দিকে নিহত নাহিদের চাচাত ভাই বালিদুর রহমান বালিদ জানান, ভাই-ভাবি ও তাঁদের শনাক্তের জন্য আমরা কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের দপ্তরে আছি। চূড়ান্ত শনাক্তের জন্য ডিএনএ নমুনার কাজ চলছে। নিহতদের স্বজন সূত্রে জানা গেছে, নাহিদুর রহমান তুহিন ঢাকার শ্যামলীতে ‘গ্র্যান্ড পাওয়ার লিমিটেড’ নামে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন এবং পরিবার নিয়ে মিরপুরে থাকতেন। গত বৃহস্পতিবার স্ত্রী ও দুই মেয়েকে নিয়ে কক্সবাজারের উদ্দেশে ঢাকা থেকে রওনা হন তিনি। শুক্রবার তাঁরা ইনানীর টুপটুপ রিসোর্টে ওঠেন। আজ (রবিরার) তাঁদের রিসোর্ট হাড়ার কথা ছিল। তুহিনের চাচাতো ভাই রিয়াজ উদ্দিন জানান, শুক্রবার রাত ১২টার পর থেকেই তুহিনের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যাচ্ছিল। শনিবার সকালে রিসোর্টে অগ্নিকান্ডের বানর পেয়ে তাঁর স্ত্রী তানজির ফোনেও যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়, সেটিও বন্ধ পাওয়া যায়। তাঁদের মোবাইলের সর্বশেষ লাইভ লোকেশন টুপটুপ রিসোর্টেই দেখাচ্ছিল। রিয়াজ বলেন, ‘সারাদিন খোঁজ করেও ভাই ও তাঁর পরিবারের সন্ধান পাইনি। শনিবার সন্ধ্যায় রিসোর্টের টয়লেট থেকে জড়াজড়ি অবস্থায় চারজনের দন্ধ লাশ উদ্ধারের পর আমরা ধরে নিয়েছি, তুহিন ভাই, তাঁর স্ত্রী ও দুই মেয়ে বেঁচে নেই। এই খবর ছড়িয়ে পড়ার পর আমাদের পরিবারসহ পুরো এলাকা শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়েছে।’ মনিরামপুর খানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু সাঈদ বলেন, কক্সবাজারের রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের মধ্যে মনিরামপুরের এক দম্পতি ও তাঁদের দুই মেয়ে রয়েছেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। তাঁদের মরদেহ স্থানীয় হাসপাতালে রাখা হয়েছে। চূড়ান্ত শনাক্তকরণ শেষে মরদেহ হস্তস্তম করা হবে। নিহত নাহিদুর রহমান তুহিনের বন্ধু হাদিউজ্জামান তোতা বলেন, তুহিন শুধু একজন সফল কর্মকর্তাই ছিলেন না, তিনি মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনোলজি অ্যান্ড পুলিশ সায়েন্স বিভাগের দ্বিতীয় ব্যাচের মেধাবী শিক্ষার্থী ছিলেন। তাঁর এমন আকস্মিক ও মর্মান্তিক প্রয়াণে বিশ্ববিদ্যালয় অঙ্গনেও নেমে এসেছে গভীর শোক। গোটা মণিরামপুরের আকাশে-বাতাসে এখন শুধু প্রিয়জন হারানোর দীর্ঘশ্বাস।#


এই বিভাগের আরও খবর