রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬, ১২:৪৩ পূর্বাহ্ন

বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপের দাপটে ভরা মৌসুমে বন্ধ ইলিশ আহরণ,কোটি টাকার লোকসানের শঙ্কা

মাসুম হাওলাদার: / ৩৬ টাইম ভিউ
আপডেট সময়: শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২৬

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে উত্তাল হয়ে উঠেছে দক্ষিণ-পশ্চিম উপকলের সাগর। টানা ভারী বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ায় ভরা মৌসুমেও কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে ইলিশ আহরণ। প্রাণ বাঁচাতে গত ৩ জুলাই থেকে গভীর সাগর ছেড়ে সুন্দরবনের বিভিন্ন খাল ও উপক লীয় নিরাপদ ঘাটে আশ্রয় নিয়েছে শত শত মাছ ধরার ট্রলার। এতে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন হাজারো জেলে। অন্যদিকে মৌসুমের শুরুতেই কোটি কোটি টাকার বিনিয়োগ আটকে গিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন ট্রলার মালিক ও মৎস্য ব্যবসায়ীরা। বাগেরহাট মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র কেবিতে আগে প্রতিদিন কোটি টাকার ইলিশ পাইকারি দরে বিক্রি হতো। তখন জেলেদের মুখে লেগে থাকতো স্বস্তির হাসি। কিন্তু এবার সে চিত্র পাল্টেছে। ট্রলার নিয়ে সাগরে গিয়ে জেলোর কাঙ্ক্ষিত ইলিশের সন্ধান পাচ্ছেন না। অথচ ইলিশের এখন ভরা মৌসুম। তাই হতাশায় দিন পার করছেন তারা।

বাগেরহাট কেবি মৎস্য আড়ৎদার  হারুন মীর বলেন, কোটি টাকা দাদন দিয়েও জেলের জালে যে পরিমাণ মাছ পাওয়ার কথা, সেটি পাওয়া যাচ্ছে না। ইলিশের এই ভরা মৌসুমে আমরা অনেকটাই লোকশানের মুখে।

জানা গেছে, বাগেরহাটের কেবি বাজারে ভোর সাড়ে ৫ টা থেকে সকাল ৮টা পর্যন্ত মাছ কেনাবেচা হয়। জেলার বাইরে গোপালগঞ্জ, পাবনা, ঈশ্বরদী, যশোর, রাজশাহী থেকেও ব্যবসায়ীরা এখানের বাজার থেকে মাছ কিনে ট্রাকে করে নিয়ে যান বেশি দাম পাওয়ার আশায়।

স্থানীয় জেলে, ট্রলার মালিক ও মৎস্য আড়তদারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উত্তাল সাগরের কারণে বর্তমানে গভীর সমুদ্রে কোনো মাছ ধরার ট্রলার নেই।

উপকলে ফেরার পথে কয়েকটি ট্রলারডুবির ঘটনাও ঘটেছে। ফিরে আসা ট্রলারগুলো সুন্দরবনের দুবলার চর, আলোরকোল, মেহেরআলী, ভেদাখালী এবং উপক‚লের পাথরঘাটা, মহিপুর ও নিদ্রাসখিনাসহ বিভিন্ন নিরাপদ স্থানে নোঙর করে আছে।

বাগেরহাট সদর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা,আব্দুল্লাহ আল মামুন,বলেন,নিম্নচাপের কারণে সাগরের পরিস্থিতি অত্যন্ত বিপজ্জনক। দুর্ঘটনা এড়াতে জেলেরা নিরাপদ আশ্রয়ে অবস্থান করছেন। আবহাওয়া স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত কোনো ট্রলার সাগরে না যাওয়ার জন্য মৎস্য বিভাগের পক্ষ থেকে সার্বক্ষণিক সতর্কতা ও নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। বাগেরহাটের

শরণখোলার মৎস্য ব্যবসায়ী হবিবুর রহমান ও মো. কবির হাওলাদার বলেন, ৫৮ দিনের সরকারি নিষেধাজ্ঞা শেষে জেলেরা সাগরে গেলেও প্রথম কয়েকটি ট্রিপে আশানুরূপ ইলিশ মেলেনি। এর মধ্যে ইলিশের সংকট, জলদস্যুদের উৎপাত এবং বৈরী আবহাওয়া এই তিন সংকটে জেলে ও মহাজনেরা এখন দিশেহারা।

তারা জানান, একটি ট্রলার সাগরে পাঠাতে জ্বালানি, রসদ ও জেলেদের অগ্রিম দাদনসহ ট্রিপপ্রতি আড়াই থেকে তিন লাখ টাকা ব্যয় হয়। কিন্তু গত কয়েক দিন মাছ ধরা বন্ধ থাকায় সেই বিনিয়োগ এখন ঝুঁকির মুখে। জেলেদের আয় বন্ধ থাকায় তাদের দৈনন্দিন খরচও বহন করতে হচ্ছে ট্রলার মালিকদের। ফলে লোকসানের পরিমাণ প্রতিদিনই বাড়ছে।

শরণখোলা ফিশিং ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি মো. আবুল হোসেন বলেন,উত্তাল ঢেউয়ের কারণে জেলেরা জাল গুটিয়ে ফিরে আসতে বাধ্য হয়েছেন। গত চার দিন ধরে শরণখোলার দুই শতাধিক ট্রলার সুন্দরবনের বিভিন্ন খাল ও ঘাটে আশ্রয় নিয়ে আছে। আবহাওয়া স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সাগরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।,

তিনি জানান, উপজেলার দুই শতাধিক ট্রলারে গড়ে প্রায় তিন লাখ টাকা করে বিনিয়োগ করা হয়েছে। দুর্যোগের কারণে শুধু শরণখোলার ব্যবসায়ীদেরই প্রায় তিন কোটি টাকার পুঁজি আটকে গেছে। পরবর্তী ট্রিপের জন্য নতুন করে অর্থের জোগান কীভাবে হবে, তা নিয়েই এখন সবচেয়ে বেশি দুশ্চিন্তা।
 
পর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) মো. শরীফুল ইসলাম বলেন,বৈরী আবহাওয়ার কারণে সুন্দরবনের বিভিন্ন দুর্গম খালে আশ্রয় নিয়েছে অসংখ্য ট্রলার। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বন বিভাগের সব ফাঁড়ি ও ক্যাম্পকে সতর্ক রাখা হয়েছে। প্রয়োজনীয় যেকোনো সহায়তা দিতে বন বিভাগ প্রস্তুত রয়েছে।’
ভরা মৌসুমে এমন অচলাবস্থায় উপক‚লজুড়ে থমকে গেছে ইলিশনির্ভর অর্থনীতি। আবহাওয়া দ্রæত স্বাভাবিক না হলে জেলে, ট্রলার মালিক, আড়তদার থেকে শুরু করে পুরো মৎস্য খাতেই লোকসানের পরিমাণ আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা সংশ্লিষ্টদের।#  

মৎস্য আড়ৎদার  হারুন মীর বলেন, কোটি টাকা দাদন দিয়েও জেলের জালে যে পরিমাণ মাছ পাওয়ার কথা, সেটি পাওয়া যাচ্ছে না। ইলিশের এই ভরা মৌসুমে আমরা অনেকটাই লোকশানের মুখে।


এই বিভাগের আরও খবর