রামপালে নাগরিক নেতা, জনপ্রতিনিধি ও শিক্ষার্থীদের নিয়ে তথ্য অধিকার দিবস পালন করলো নির্মাণ সমাজ উন্নয়ন সংস্থা।
ডিজিটালাইজেশনের এই যুগে সঠিক তথ্য আর অপতথ্যের মধ্যে পার্থক্য নির্ণয় করা কঠিন হয়ে উঠছে। সোশ্যাল মিডিয়া সামাজিক বিচারের শক্তিশালী নিয়ন্ত্রক হয়ে উঠেছে। অহরহ মিথ্যা, অতিরঞ্জিত, অর্ধসত্য বা এমন নেতিবাচক তথ্যের কারণে মানুষ বিভ্রান্ত হচ্ছে। জনমত প্রভাবিত হচ্ছে। ফলে সমাজে বিভ্রান্তি, অসহিষ্ণুতা ও ন্যয় বিচার বাধাগ্রস্থ হবার শঙ্কা বাড়ছে। অবাধ তথ্য প্রবাহের সুফল থেক সমাজ অহরহই বঞ্চিত হচ্ছে। তাই অপতথ্যের প্রসার রোধে নাগরিকদের তথ্য অধিকারকে আরও সুনির্দিষ্ট ও সঠিকভাবে প্রয়োগের সুযোগ বাড়াতে হবে ।
বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার খান জাহান আলী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ২৮ সেপ্টম্বর সোমবার সকালে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক তথ্য অধিকার দিবসের আলোচনা সভায় একথা বলেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি রামপাল উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো: শাহিনুর রহমান।
দাতা সংস্থা এম্বাসী অব সুইজারল্যান্ড, গ্লোবাল এফেয়ার্স কানাডা, ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন ও মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন (এমজেএফ) এর অর্থায়নে ‘নাগরিক’ প্রকল্পের আওতায় পারিবারিক নির্যাতন প্রতিরোধ জোট (উই ক্যান) ও নির্মাণ সমাজ উন্নয়ন সংস্থা আন্তর্জাতিক তথ্য অধিকার দিবস উপলক্ষে র্যালি, আলোচনা সভা ও শিক্ষার্থীদের নিয়ে কুইজ প্রতিযোগিতা আয়োজন করে।
“ডিজিটাল যুগে সঠিক তথ্য নিশ্চিতকরণ: অপতথ্য রোধে তথ্য অধিকারের ভূমিকা” শীর্ষক প্রতিপাদ্য সামনে নিয়ে বিশ্ব জুড়ে এবারের আন্তর্জাতিক তথ্য অধিকার দিবস উদযাপন করা হচ্ছে।
খান জাহান আলী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো: ফরহাদ হোসেন আকুঞ্জীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন রামপাল উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা ও উপজেলা এনজিও সমন্বয় ফোরামের সদস্য সচিব মো: শাহিনুর রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি মো: মুজিবর রহমান জোয়ার্দ্দার, নির্মাণ সমাজ উন্নয়ন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক রিজিয়া পারভীন, গৌরম্ভা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের নায়েব শেখ মনিরুজ্জামান, গৌরম্ভা ইউপি সদস্য বাবু চম্পক কুমার কুন্ডু, আবু মুছা আকুঞ্জি ও ফিরোজ হোসেন, বিশিষ্ট সমাজসেবক মো: শারাফাত হোসেন ও গৌরম্ভা ইউনিয়ন নাগরিক ফোরামের সভাপতি মো: ওবায়েদুল্লাহ গাজী। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন গৌরম্ভা ইউনিয়ন নাগরিক ফোরাম কার্যনির্বাহী সম্পাদক মো: মোহতাদির।
আন্তর্জাতিক তথ্য অধিকার দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানের বিশেষ আকর্ষণ ছিলো বিদ্যালযের শিক্ষার্থীদের শ্রেণী অনুযায়ী বিষয়ভিত্তিক তিনটি কুইজ প্রতিযোগিতা। বিষয়গুলো হচ্ছে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে সামাজি নিরাপত্তা কর্মসূচি, নারীর ক্ষমতায়ন ও ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা এবং তথ্য অধিকার। প্রতিযোগিতায় তিনটি বিষয়ে প্রথম যথাক্রমে ইরফান শেখ নবম শ্রেনী, জান্নাতুল শাহ সারাহ ৮ম শ্রেনী, তকি তাজওয়ার ৬ষ্ঠ শ্রেনী।
পর্যায়ক্রমে দ্বিতীয় স্থান, সুমাইয়া বিল্লাহ ১০ম শ্রেনী, তাবাচ্ছুম সুলতানা ৮ম শ্রেনী, ফাইজা জামান দিয়হা ৬ষ্ঠ শ্রেনী।
পর্যায়ক্রমে ৩য় স্থান তিথি কুন্ডু ৯ম শ্রেনী, নওরিয়া জান্নাত ৭ম শ্রেনী এবং রায়হান সরদার ৬ষ্ঠ শ্রেনী অধিকার করেন। পরে অতিথিবৃন্দ বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন।
পুরস্কার বিতরনী অনুষ্ঠান শেষে অতিথি ও অংশগ্রহনকারীদের নিয়ে বর্নাঢ্য র্যালি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সামনের সড়ক প্রদক্ষিন করে।
অনুষ্ঠানে প্রশাসনিক কর্মকর্তা, এসএমসি, শিক্ষক, জনপ্রতিনিধি, নাগরিক নেতা, নারীনেত্রীসহ প্রায় ৩০০ মানুষ অংশগ্রহন করে।
