শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:১২ পূর্বাহ্ন

শিল্পের সীমানা পেরিয়ে সঞ্জীবন লহরীর সৃজনশীলতার বিশ্বযাত্রা

মোহাম্মদ বাবুল আকতার, মনিরামপুরঃ / ১২
আপডেট সময়: শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২৬


বাংলাদেশের শিল্পাঙ্গনে নীরবে দীর্ঘদিন ধরে নিজস্ব দর্শন, গবেষণা ও শিল্পচর্চার মাধ্যমে স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করেছেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন চিত্রশিল্পী, ভাস্কর, গবেষক ও শিক্ষাবিদ সঞ্জীবন লহরী। শিল্পকে কেবল নান্দনিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে মানবসম্পদ উন্নয়ন, সৃজনশীল চিন্তার বিকাশ এবং প্রকৃতি-নির্ভর শিক্ষা দর্শনের সঙ্গে যুক্ত করে তিনি উদ্ভাবন করেছেন “চারুনীড় পদ্ধতি “, যা ইতোমধ্যে দেশ-বিদেশে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
যশোরের মনিরামপুরে জন্ম নেওয়া সঞ্জীবন লহরী চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চারুকলায় স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। প্রায় দুই যুগ শিক্ষকতা শেষে তিনি ২০০০ সালে প্রতিষ্ঠা করেন চারুনীড় রিলেশন অব আর্ট ক্রিয়েটিভ অর্গানাইজেশন। ২০১১ সালে প্রতিষ্ঠানটি সমাজকল্যাণ অধিদপ্তরের নিবন্ধন লাভ করে। এর মাধ্যমে শিশু-কিশোরদের সৃজনশীল মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে গবেষণাভিত্তিক প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করছেন তিনি।
দেশের জাতীয় শিল্পকলা একাডেমিসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে তাঁর শিল্পকর্ম প্রদর্শিত হয়েছে। আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম জারভাস আর্ট(zervas Art) ও ইউনেস্কো-সংশ্লিষ্ট শিল্প প্রদর্শনীতেও তাঁর শিল্পকর্ম স্থান পেয়েছে। আন্তর্জাতিক শিল্পসমালোচকদের মূল্যায়নে তাঁর কাজ মৌলিকত্ব, কারিগরি দক্ষতা ও প্রকৃতিনির্ভর ভাবনার জন্য বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়েছে এবং Certificate of Authenticity অর্জন করেছে।
দেশের প্রথিতযশা শিল্পী চারু পিন্টু বলেন, “সঞ্জীবন লহরীর শিল্পচর্চা শুধু ছবি আঁকার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; তিনি শিল্পকে মানুষের চিন্তা, মূল্যবোধ ও সৃজনশীলতার বিকাশের শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে কাজ করছেন। তাঁর গবেষণাধর্মী উদ্যোগ শিল্পাঙ্গনের জন্য নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে।”
আলোচিত শিল্পী ও ‘চিত্রশালা’-এর স্বত্বাধিকারী বিকাশ আনন্দ সেতু বলেন, “সঞ্জীবন লহরীর শিল্পভাষা একেবারেই নিজস্ব। প্রকৃতি, সংস্কৃতি ও মানুষের জীবনসংগ্রাম তাঁর শিল্পে নতুন মাত্রা পেয়েছে। আন্তর্জাতিক শিল্প অঙ্গনেও তাঁর কাজ বাংলাদেশের জন্য গর্বের বিষয়।”
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা, আর্ট অ্যান্ড পেইন্টিং বিভাগের অধ্যাপক শাপলা সিংহ বলেন, “গবেষণা, সৃজনশীলতা এবং শিল্পশিক্ষাকে একসূত্রে গাঁথার যে প্রয়াস সঞ্জীবন লহরী নিয়েছেন, তা সময়োপযোগী ও ব্যতিক্রমধর্মী। তাঁর ‘চারুনীড় পদ্ধতি’ শিল্পশিক্ষায় নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলতে পারে।”
নিজের শিল্পদর্শন সম্পর্কে সঞ্জীবন লহরী বলেন, “শিল্প কেবল সৌন্দর্য সৃষ্টি নয়, এটি মানুষের বিবেক, চিন্তা ও সৃজনশীল শক্তিকে জাগ্রত করার একটি মাধ্যম। প্রকৃতিকে গভীরভাবে উপলব্ধি করে মানবকল্যাণে সৃজনশীল মানুষ গড়ে তোলাই আমার কাজের মূল লক্ষ্য।”
বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ আহমেদ শফি বলেন,”গবেষণা, মৌলিক শিল্পচিন্তা এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের শিল্পকে নতুনভাবে উপস্থাপনের প্রচেষ্টায় শিল্পী সঞ্জীবন লহরী ইতোমধ্যে একটি স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করেছেন। তাঁর উদ্ভাবিত শিক্ষা ও শিল্পদর্শন ভবিষ্যতে দেশীয় শিল্পচর্চা এবং সৃজনশীল মানবসম্পদ উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।#

মোহাম্মদ বাবুল আকতার
মনিরামপুর,যশোর


এই বিভাগের আরও খবর