রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১২:৪১ অপরাহ্ন

বৃষ্টি-বন্যার প্রভাবে সবজি-মাছ-ডিম-পেঁয়াজের দামে অস্থিরতা:বিপাকে নিম্ন ও নির্দিষ্ট আয়ের মানুষ

উত্তাল ডেস্ক: / ১৮
আপডেট সময়: রবিবার, ২৬ জুলাই, ২০২৬

টানা বৃষ্টিপাত ও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বন্যার প্রভাবে রাজধানীর কাঁচাবাজারে আবারও নিত্যপণ্যের দামে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। সবজি, মাছ, ডিম, পেঁয়াজ, কাঁচামরিচসহ অধিকাংশ পণ্যের দাম এক সপ্তাহের ব্যবধানে উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। এতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন নিম্ন ও নির্দিষ্ট আয়ের মানুষ।”

রাজধানীর রামপুরা, খিলগাঁও, মিরপুর ও মালিবাগ কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে, সপ্তাহের ব্যবধানে বিভিন্ন নিত্যপণ্যের দাম কেজিপ্রতি ২০ থেকে সর্বোচ্চ ২০০
টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বাজারে আসা ক্রেতাদের অনেকেই প্রয়োজন অনুযায়ী পণ্য কিনতে পারছেন না। অনেকে আবার অল্প পরিমাণে কিনে প্রয়োজন মেটানোর চেষ্টা করছেন।”

মিরপুর-৬ নম্বর বাজারে কাঁচামরিচ কিনতে আসা বাবু ২০ টাকার মরিচ চাইলে বিক্রেতা কচি জানান, ১০০ গ্রাম মরিচের দামই এখন ৩০ টাকা। পরে ২০ টাকায় মাত্র ৭০ গ্রাম মরিচ তুলে দেন তিনি। এ সময় ক্ষোভ প্রকাশ করে বাবু বলেন, “কিছুদিন আগেও ৩০ টাকায় ২৫০ গ্রাম মরিচ পাওয়া যেত। এখন একই টাকায় ১০০ গ্রামও মিলছে না।

বিক্রেতারা জানান, মাত্র দুই দিন আগেও কাঁচামরিচের কেজি ছিল ২০০ টাকা। বর্তমানে তা ২৮০ থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বন্যার আগে একই মরিচের দাম ছিল ১০০ থেকে ১২০ টাকা। অর্থাৎ কয়েক দিনের ব্যবধানে কেজিতে প্রায় ২০০ টাকা পর্যন্ত দাম বেড়েছে। বাজারের বাইরে ভ্রাম্যমাণ বিক্রেতারাও প্রতি পোয়া মরিচ ৭০ টাকায় বিক্রি করছেন।”

সবজির বাজারেও একই চিত্র। পেঁপে ৪০ টাকা এবং পটল ৬০ টাকা কেজি ছাড়া প্রায় সব ধরনের সবজির দাম ৮০ টাকার ওপরে। রামপুরা বাজারে বেগুন ১০০ থেকে ১৫০ টাকা, ঝিঙা ও চিচিঙ্গা ৮০ থেকে ১০০ টাকা, করলা ১২০ টাকা এবং শসা ও গাজর ১২০ থেকে ১৪০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।

পেঁয়াজের দামও বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে। কয়েকদিন আগেও ভালো মানের পেঁয়াজ ৩৫ থেকে ৪০ টাকা কেজিতে বিক্রি হলেও বর্তমানে তা ৬০ টাকায় পৌঁছেছে। মাঝারি মানের পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৫৫ টাকায়। পাইকারি বাজারেও পাঁচ কেজির পাল্লা ২০০-২২০ টাকা থেকে বেড়ে ২৬০-২৮০ টাকায় উঠেছে।

ডিম ও মুরগির বাজারেও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। ফার্মের ডিমের ডজন এখন ১৪০ টাকা, যা কয়েকদিন আগেও ছিল ১৩০ টাকা। দেড়-দুই সপ্তাহ আগে একই ডজন ডিম বিক্রি হয়েছে ১২০ টাকায়। ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে ১৯০ থেকে ২১০ টাকা হয়েছে। সোনালি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ থেকে ৩৮০ টাকা কেজিতে।”
মাছের বাজারেও সরবরাহ সংকটের প্রভাব পড়েছে। আগে ৩৫০ থেকে ৩৮০ টাকায় বিক্রি হওয়া দুই থেকে আড়াই কেজি ওজনের রুই মাছ এখন ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। তেলাপিয়া ও পাঙাশের দাম কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা বেড়ে যথাক্রমে ২৪০ থেকে ২৬০ টাকা এবং ২২০ থেকে ২৫০ টাকায় উঠেছে।
চাষের চিংড়ি বিক্রি হচ্ছে ৯০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা কেজিতে, যা গত সপ্তাহের তুলনায় প্রায় ১০০ টাকা বেশি। পাবদা মাছের কেজি ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা। অন্যদিকে বাজারে ইলিশের সরবরাহ কম থাকায় এক কেজি ওজনের ইলিশ কিনতে গুনতে হচ্ছে ১ হাজার ৬০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকা।

বাজার করতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী তপন হক ও রাজু বলেন, “আগেই সবকিছুর দাম বেশি ছিল। এখন বৃষ্টির অজুহাতে মাছ-সবজির দাম আরও বাড়ানো হয়েছে। সাধারণ মানুষের জন্য সংসার চালানো দিন দিন কঠিন হয়ে যাচ্ছে।#bL


এই বিভাগের আরও খবর