বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৩২ পূর্বাহ্ন

বাগেরহাটে সীম কার্ড ক্লোনকরে টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগে ৯ প্রতারক গ্রেফতার

বাগেরহাট প্রতিনিধি: / ১১
আপডেট সময়: মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

বাগেরহাটে বিকাশ ও নগদের গ্রাহকদের সীম কার্ড ক্লোন
করে টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগে ৯ প্রতারক গ্রেফতার

বাগেরহাটে ডিজিটাল মোবাইল ব্যাংকিং বিকাশ নগদের গ্রাহকদের সীমকার্ড ক্লোন করে টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগে পুলিশ সংঘবদ্ধ আন্তজেলা একটি প্রতারক চক্রকে গ্রেপ্তার করেছে। এ সময় তাদের কাছ থেকে ১১টি মুল্যবান মোবাইল সেট, প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নেয়া ৮০ হাজার টাকা ও ২০টি সীমকার্ড উদ্ধার করা হয়। এই চক্রের মোট ৯জন সদস্যকে পুলিশ গ্রেফতার করে। এরা দেশের বিভিন্ন এলাকায় প্রতারণা করেছে বলে দাবি পুলিশ বাহিনীর। মঙ্গলবার  দুপুরে বাগেরহাট জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে জেলা পুলিশ সুপার মো. জামিরুল ইসলাম সংবাদকর্মীদের  এই তথ্য জানান।  পুলিশ সুপার বলেন,গত ২৭ জুন বাগেরহাটের মোংলা উপজেলার চিলা বাজার এলাকার বিকাশ ও নগদ একাউন্টে লেনদেন করা দুই ব্যবসায়ির সীম ক্লোন করে আড়াই লাখ  টাকা প্রতারকচক্র তুলে নেওয়ার ঘটনায় একটি মামলা হয়। ওই মামলার তদন্তে নেমে পুলিশ  প্রতারক চক্রের সন্ধান পায়। ওই সময়ে পুলিশ ৪ জনকে গ্রেপ্তার করে। সর্বশেষ সোমবার ৫জনকে ১১টি হ্যান্ডসেট, নগদ ৮০ হাজার টাকা ও ২০ সীমকার্ডসহ গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গ্রেফতারকৃতরা হলো বাগেরহাটের শরনখোলা উপজেলার নলবুনিয়া গ্রামের ইয়াছিন সওদাগর (২১), মোংলা উপজেলার মাদুর পাল্টা গ্রামের শামীম শেখ (২৭), বাগেরহাট সদর উপজেলার বাগদিয়া গ্রামের রাশেদ মোড়ল (২০), মোরেলগঞ্জ পৌরসভার পূর্ব সরালিয়া এলাকার এহসানুল হাসান রাকিব (৩২), পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার বানাতিবাজার এলাকার ফেরদাউস (২১), মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার ষোলআনি এলাকার আশ্রাফুল ইসলাম (২৬), একই উপজেলার জাইসতালা এলাকার মেহেদী হাসান (২৯), বরগুনা সদর উপজেলার বালিয়াতলী এলাকার মো. নাজমুল হাসান (২০) এবং পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার ভয়াং এলাকার মো. মামুন গাজী (২১)। বাগেরহাটের পুলিশ সুপার মো. জামিরুল ইসলাম বলেন, ব্যবসায়িক সীম ব্যবহার করে সংঘবদ্ধ একটি চক্র ডিজিটাল পদ্ধতিতে বিকাশ ও নগদের মাধ্যমে গ্রাহকদের সাথে প্রতারণা করছে এই অভিযোগ পেয়ে পুলিশ তদন্তে নেমে আন্ত:জেলা প্রতারক চক্রের ৯জনকে গ্রেপ্তার করতে। এ সময় তাদের কাছ থেকে ১১টি হ্যান্ডসেট, প্রতারণার মাধ্যমে গ্রাহকের হাতিয়ে নেয়া ৮০ হাজার টাকা, ২০ সীম উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনায় মোংলা থানায় ডিজিটাল সাইবার সুরক্ষা আইনে একটি মামলা হয়েছে। ডিজিটাল পদ্ধতিতে ফিঙ্কারপ্রিন্ট ক্লোন করে। ক্লোন করা ফিঙ্কারপ্রিন্টের মাধ্যমে প্রথমে তারা বিকাশ নগদের গ্রাহকদের সীম তোলে। তারপরে তারা গ্রাহকদের একাউন্ট লগিন করার জন্য বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে। কলসেন্টারে যখন কল করে বলা হয় আমার একাউন্ট নাম্বারটা বøক (বিকাশ/নগদ) হয়ে গেছে, এটা আমি চালু করতে চাই। তখন কলসেন্টার গ্রাহকদের বিভিন্ন প্রশ্ন করে। সেই প্রশ্নের জন্য প্রতারক চক্র আগেই প্রস্তুতি নিয়ে রাখে। ছোট খাট কিছু টাকার লেনদেন (ট্রান্সজিকশন) তারা নিজেরাই করে দেয়। যে প্রশ্নগুলো সচরাচর করা হয় সেগুলোর যখন সন্তোষজনক উত্তর পায় কলসেন্টার তখন তারা মনে করে ওই একাউন্টের সঠিক মালিক তিনি। তখন কলসেন্টার তাদের একাউন্ট লগিন করে দেয়। এই চক্রের সাথে আরও কারা জড়িত আছে তা পুলিশ তদন্ত করবে।#az


এই বিভাগের আরও খবর