রবিবার, ০৭ জুন ২০২৬, ১২:১৪ পূর্বাহ্ন

ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ ও মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে দেশজুড়ে বিশেষ অভিযান শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক: / ৩৯ টাইম ভিউ
আপডেট সময়: শনিবার, ৬ জুন, ২০২৬

ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ ও মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে রাজধানীসহ সারাদেশে তিন মাসব্যাপী বিশেষ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে। শনিবার (০৬ জুন) ঢাকার ধানমন্ডির রবীন্দ্র সরোবরে আয়োজিত অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে নেওয়া এ কর্মসূচির মাধ্যমে ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, মশার প্রজননস্থল ধ্বংস এবং সমন্বিত প্রতিরোধ কার্যক্রম জোরদার করা হবে।
উদ্বোধনী ​অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, প্রতিটি নাগরিককে নিজ নিজ বাড়ির আঙিনা, ফুলের টব, ছাদ, বারান্দা, ড্রেন ও আশপাশের পরিবেশ নিয়মিত পরিষ্কার রাখতে হবে। কোথাও যেন কোনো অবস্থাতেই বৃষ্টির পানি বা অন্য কোনো পানি জমে না থাকে, সে বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে। জমে থাকা এই স্বচ্ছ পানিই এডিস মশার প্রজননের প্রধান উৎস। তাই ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু সরকারি উদ্যোগই যথেষ্ট নয়, বরং প্রতিটি পরিবার ও ব্যক্তির স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।”

স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকার আজ থেকেই দেশজুড়ে মাইকিংসহ ব্যাপক সচেতনতামূলক প্রচারণা শুরু করছে। আমরা সবার কাছে এই বার্তা পৌঁছে দিতে চাই যে, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং পানি জমতে না দেওয়াই ডেঙ্গু প্রতিরোধের সর্বোত্তম উপায়।

​জনগণের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন, সচেতনতা বৃদ্ধির পরও যদি অবহেলা দেখা যায়, তবে আমরা কঠোরভাবে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করবো। যেখানেই এডিস মশার লার্ভা পাওয়া যাবে, সেখানেই আইন অনুযায়ী সর্বোচ্চ জরিমানা করা হবে।

ডিএসসিসি প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম বলেন, ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে নাগরিকদের ভূমিকাই সবচেয়ে অগ্রগণ্য। তিনি জানান, ডিএসসিসির নিজস্ব জরিপে ৭৫টি ওয়ার্ডের মধ্যে ২৮টি ওয়ার্ডকে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই ঝুঁকিপূর্ণ ওয়ার্ডগুলোতে রোববার থেকে এক সপ্তাহের বিশেষ ‘ক্র্যাশ প্রোগ্রাম’ শুরু হবে।”

​তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী দুই মাস আগেই ডেঙ্গুর সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে সবাইকে সতর্ক করেছিলেন। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী সিটি করপোরেশন ও স্বাস্থ্য বিভাগ যৌথভাবে পূর্বপ্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।

​উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এবং ডিএসসিসি প্রশাসক বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, ধানমন্ডি সোসাইটি ও স্থানীয় বাসিন্দাদের অংশগ্রহণে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক বর্ণাঢ্য র‍্যালিতে অংশ নেন।#bl


এই বিভাগের আরও খবর