রবিবার, ০৭ জুন ২০২৬, ০১:২৮ পূর্বাহ্ন

আগুনে পুড়ল এক সংগ্রামী নারীর স্বপ্ন, আশা ও জীবিকার শেষ সম্বল

শরণখোলা প্রতিনিধি: / ২৫ টাইম ভিউ
আপডেট সময়: শনিবার, ৬ জুন, ২০২৬

বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার সাউথখালী ইউনিয়নের গাবতলা বাজারে গভীর রাতে ভয়াবহ অগ্নিকাÐে পাঁচটি দোকান পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। শুক্রবার ভোররাতে ঘটে যাওয়া এ ঘটনায় প্রাথমিকভাবে প্রায় ১০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে রয়েছেন সুমি বেগম, যার দোকানটিই ছিল দুই সন্তানকে নিয়ে বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বন।
আগুনে শুধু একটি দোকানই পুড়ে যায়নি, মুহুর্তের মধ্যে ছাই হয়ে গেছে এক সংগ্রামী নারীর স্বপ্ন, আশা ও জীবিকার শেষ সম্বল।
স্বামীকে হারানোর পর থেকেই দুই সন্তানকে নিয়ে কঠিন সংগ্রামের জীবন শুরু হয় সুমি বেগমের। পরিবারে উপার্জনের মতো আর কেউ না থাকায় সন্তানদের মুখে খাবার তুলে দিতে দীর্ঘদিন ধরে নানা প্রতিক‚লতার সঙ্গে লড়াই করে আসছিলেন তিনি। একসময় এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে গাবতলা বাজারে একটি ছোট দোকান গড়ে তোলেন। দোকান পরিচালনার পাশাপাশি সেলাইয়ের কাজ করে বাড়তি কিছু আয় করতেন।
কিন্তু শুক্রবার ভোররাতের আগুন তার সেই সামান্য সম্বলটুকুও কেড়ে নিয়েছে। দোকানে থাকা সব মালামালের পাশাপাশি পুড়ে গেছে তার সেলাই মেশিনটি যেটি ছিল সুমির সংসারের অতিরিক্ত আয়ের একমাত্র ভরসা।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে সুমি বেগম বলেন, “আমার স্বামী নেই, বাবাও নেই। দুই সন্তান নিয়ে অনেক কষ্টে জীবন চালাই। এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে দোকান দিয়েছিলাম। আগুনে সব শেষ হয়ে গেছে। এখন বাচ্চাদের কী খাওয়াবো, কীভাবে ঋণের টাকা শোধ করবো কিছুই বুঝতে পারছি না।”
স্থানীয়দের ভাষ্য, স্বামী হারানোর পরও কখনো কারও কাছে হাত পাতেননি সুমি। নিজের পরিশ্রম আর আত্মসম্মানকে পুঁজি করে সন্তানদের মানুষ করার চেষ্টা করে যাচ্ছিলেন। কিন্তু অগ্নিকাÐের এই ঘটনায় তিনি এখন সম্প‚র্ণ নিঃস্ব।
প্রতিবেশীরা জানান, আগুনের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে বারবার কান্নায় ভেঙে পড়ছিলেন সুমি। পুড়ে যাওয়া দোকানের ধ্বংসস্ত‚পের দিকে তাকিয়ে তিনি শুধু বলছিলেন, “এটাই ছিল আমার সব।”
এদিকে স্থানীয়রা জানান, উপক‚লীয় এই বাজারটি দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপ‚র্ণ অবস্থায় পরিচালিত হয়ে আসছিল। ভোররাতে হঠাৎ আগুনের স‚ত্রপাত হলে স্থানীয়রা পানি দিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। তবে আগুন দ্রæত ছড়িয়ে পড়ায় ফায়ার সার্ভিস পৌঁছানোর আগেই পাঁচটি দোকান সম্প‚র্ণ পুড়ে যায়।
স্থানীয়দের ধারণা, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের স‚ত্রপাত হয়ে থাকতে পারে। তবে আগুন লাগার প্রকৃত কারণ এবং ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ তদন্তের পর জানা যাবে।
ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আবু হানিফ ফকির বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত সবাই এখন অসহায় অবস্থায় রয়েছেন। তাদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করা হবে।
এ বিষয়ে বাগেরহাট-৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল আলিম বলেন, তিনি ঘটনাটি সম্পর্কে অবগত হয়েছেন। উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে ক্ষতিগ্রস্তদের সহযোগিতার ব্যবস্থা করা হবে।
অগ্নিকাÐে ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে রয়েছেন আজিজ খান, আসাদুল খান, সুমি বেগম, সাইদুল, ননী শেখ, আলম মৃধা ও শামীম। তাদের মধ্যে কেউ দোকানের মালিক, আবার কেউ ভাড়া নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করতেন।
আজ সুমির সামনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন দুই সন্তানকে নিয়ে তিনি কীভাবে আবার নতুন করে জীবন শুরু করবেন। উপক‚লের এই সংগ্রামী নারীর চোখে এখন শুধুই অনিশ্চয়তার ছায়া, আর বুকভরা দীর্ঘশ্বাস।#rk


এই বিভাগের আরও খবর