বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ০৬:০৭ অপরাহ্ন

মোংলা বন্দর শ্রমিক-কর্মচারীদের ২৬ শতাংশ মজুরি বৃদ্ধি

মাসুম হাওলাদার: / ৩৬ টাইম ভিউ
আপডেট সময়: বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী, ২০২৬

মোংলা বন্দরে কর্মরত শ্রমিকদের কল্যাণ, নিরাপত্তা ও আর্থসামাজিক উন্নয়ন নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ও যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।

মোংলা বন্দরে কর্মরত শ্রমিকদের কল্যাণ, নিরাপত্তা ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে শ্রমিক-কর্মচারীদের শ্রম মজুরি বৃদ্ধি করা হয়েছে। মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের প্রত্যক্ষ সহযোগিতা ও আন্দোলন সংগ্রামের সাড়ে ৩ বছর পর একটি গুরুত্বপূর্ণ ও যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে বন্দরের সাথে সংশ্লিষ্ট শ্রমিক-কর্মচারীদের। মোংলা বন্দরের কর্মরত শ্রমিকরা তাদের শ্রমিক কর্মচারী সংঘ (রেজিঃ নং খুলনা-২১৪৩)-এর মাধ্যমে কর্মঘণ্টা, মজুরি বৃদ্ধি, ভাতা, শ্রমিক কল্যাণ বোর্ডের সুবিধা, বীমা, চিকিৎসা সুবিধাসহ মোট ১৮টি যৌক্তিক দাবি উপস্থাপন করেন। তার মধ্য থেকে গুরুত্বপূর্ণ হলো ২৬% শ্রম মজুরি বৃদ্ধি করা। উক্ত দাবিসমূহ মোংলা বন্দর বার্থ ও শিপ অপারেটরস এ্যাসোসিয়েশন (মালিক পক্ষ) এবং শ্রমিক প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে এ সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়েছে। মোংলা বন্দরের বোর্ড ও জনসর্ংযোগ কার্যালয় থেকে এক প্রেস নোটের মাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বন্দর সূত্রে জানায়, মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের সভাকক্ষে চেয়ারম্যান রিয়ার এ্যাডমিরাল শাহীন রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একাধিক দ্বিপাক্ষিক বৈঠক ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ আলোচনা ও পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে দীর্ঘদিনের অনিষ্পন্ন দাবিসমূহ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে এ সকল সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। সভায় মালিক পক্ষ ও শ্রমিক প্রতিনিধিদের মধ্যে উত্থাপিত ১৮ দফা দাবি অত্যান্ত গুরুত্বসহকারে পর্যালোচনা করা হয় এবং সর্বসম্মতিক্রমে সকল দাবির নিষ্পত্তি করা হয়েছে।”

দাবিগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও প্রধান দাবি ছিল শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধি। এ প্রেক্ষিতে মালিক পক্ষ ও শ্রমিকদের বিদ্যমান প্রথানুসারে স্বাভাবিক এক সিপ্ট (৮ ঘণ্টা) কর্মঘণ্টার মজুরির উপর ২৬ শতাংশ মজুরি বৃদ্ধি করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

এছাড়াও, কর্মরত শ্রমিকদের বাসস্থান থেকে কর্মস্থলে যাতায়াত সংক্রান্ত বিষয়টি বিশেষভাবে বিবেচনায় আনা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট এলাকায় বসবাসরত শ্রমিকদের কর্মস্থলে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে কিনারায় লঞ্চঘাট থেকে ডিউটি পালনের জন্য নির্ধারিত সময়ের পূর্বে যাত্রা শুরু এবং ডিউটি শেষে নিরাপদে বাসস্থানে ফেরত পৌঁছানো পর্যন্ত সময়কে কর্মঘণ্টার অন্তর্ভুক্ত হিসেবে গণ্য করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয় এ বৈঠকে। একই সঙ্গে ডিউটি শেষে মালিক পক্ষ কর্তৃক শ্রমিকদের দ্রুত ও নিরাপদে কিনারায় পৌঁছানোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে সর্বসম্মতিক্রমে নির্ধারণ করা হয়।

অবশিষ্ট অন্যান্য ১৬টি দাবি পারস্পরিক সমঝোতা ও ঐকমত্যের ভিত্তিতে পর্যায়ক্রমে নিষ্পত্তি করা হয়েছে, তবে প্রতিটি দাবিই শ্রমিক-কর্মচারীদের পক্ষে হয়েছে মর্মে জানায় শ্রমিক প্রতিনিধিরা। সভায় মালিক পক্ষের প্রতিনিধিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মোংলা বন্দর বার্থ ও শিপ অপারেটরস এ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সৈয়দ জাহিদ হোসেন, সাধারণ সম্পাদক মোঃ জুলফিকার আলী সহ বেশ কয়েক মালিকরা (ইষ্টিভিডরস)। এছাড়া শ্রমিক পক্ষের প্রতিনিধি মোঃ আলাউদ্দিন, আলী হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য নেতৃবৃন্দরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন। পাশাপাশি মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণও এসভায় উপস্থিত ছিলেন।


বাগেরহাটের মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের উপ-পরিচালক মোঃ মাকরুজ্জামান জানান, মোংলা বন্দরের সভা কক্ষে শ্রমিক-কর্মচারী ও মালিক পক্ষের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা ও দাবি-দাওয়ার ব্যাপারে সমাধান হয়েছে। শ্রমিক-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের প্রতিক্ষা শ্রমমজুরি বৃদ্ধি দাবির বিষয় সমাধান হওয়ায় মোংলা বন্দর বার্থ ও শিপ অপারেটরস এ্যাসোসিয়েশন এবং শ্রমিক পক্ষের নেতৃবৃন্দ মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং বন্দরের সার্বিক উন্নয়ন ও কার্যক্রমের গতিশীলতা বৃদ্ধিতে সম্মিলিতভাবে কাজ করার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন মোংলা বন্দর ব্যবহারকারী (আমদানি-রপ্তানিকারক) ব্যবসায়ী ও শ্রমিক-কর্মচারীরা।সবশেষে, মোংলা বন্দর বার্থ ও শিপ অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন এবং শ্রমিক পক্ষের নেতৃবৃন্দ মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং বন্দরের সার্বিক উন্নয়ন ও কার্যক্রমের গতিশীলতা বৃদ্ধিতে সম্মিলিতভাবে কাজ করার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।


এই বিভাগের আরও খবর