বাংলাদেশ পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির বলেছেন, মাদক দ্রব্য ও কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রনে কমিউনিটি পুলিশিং ব্যবস্থা গুরুত্বপুর্ন ভুমিকা পালন করবে। দোলনা থেকে কবর পর্যন্ত পুলিশ প্রয়োজন। তাই পুলিশকে শক্তিশালী না করলে আমরা সমাজে দিনে-রাতে কেউই স্বাচ্ছন্দ্যে চলাফেরা করতে পারব না। রবিবার (২৫ অক্টোবর) বেলা ১১ টায় বাগেরহাট পুলিশ লাইনে জেলা পুলিশের আয়োজিত কমিউনিটি পুলিশিং সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির আরো বলেন, মাদক নির্মূল, সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধ, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা ও সাইবার অপরাধ সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে কমিউনিটি পুলিশিং সদস্যদের সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করতে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে শিক্ষকের ভূমিকায় কাজ করতে হবে। আইজিপি আরও বলেন, আধুনিক ও জনবান্ধব পুলিশিং ব্যবস্থা গড়ে তুলতে প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার এবং পুলিশ-জনগণের পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে মানুষকে কিভাবে সহজে ও দ্রুত সেবা প্রদান করা যায় পুলিশ স্টেশনগুলোতে সেই পদক্ষেপ গ্রহণের প্রয়াসে বাংলাদেশ পুলিশ অনেকদূর এগিয়েছে। তিনি বৈষম্যহীন, মাদকমুক্ত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।
তিনি আরো বলেন.জনগণের সঙ্গে আস্থার সম্পর্ক তৈরি করে আমরা মানবিক পুলিশ হতে চাই, জনবান্ধব পুলিশ হতে চাই। জন-আস্থা পুনরুদ্ধার এবং সমাজে শান্তি ও ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য একটি কার্যকর পুলিশি ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে আমরা কাজ করছি। স্বাধীনতা যুদ্ধের পর আমরা স্বাধীনভাবে চলতে পারি নাই। বৈশম্যের স্বীকার হয়েছি। ডিসেম্বরে আপা আসবে কি আসবে না এসব গুজবে কান দিবেন না। ২০২৪ সালে জুলাই আন্দোলনে আমরা বৈশম্য দুর করেছি। তাই জনসচেতনতা বৃদ্ধি, জনসম্পৃক্ত পুলিশিং জোরদার এবং পুলিশ ও জনগণের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতা বাড়ানোর লক্ষ্যে জেলা পুলিশ এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বাগেরহাট জেলা পুলিশ সুপার মো. জামিরুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন খুলনা রেঞ্জের উপ-মহাপুলিশ পরিদর্শক ( ডিআইজি) মো. রেজাউল করিম এবং বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন হিন্দু বৌদ্ধ খ্রীষ্টান ফোরামের সভাপতি প্রদীপ বসুশন্তু। পরে আইজিপি এক প্রেস ব্রিফিং করে বলেন, ‘সবার জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের জন্য অর্থনৈতিক উন্নয়ন প্রয়োজন। আর সকল কিছুর মূলে আমাদের বেকারত্ব। প্রতিবছর ২৫ থেকে ৩০ লাখ শিক্ষিত বেকার নতুন করে বেকারত্বের সঙ্গে যোগ হচ্ছে। মাদক ও কিশোর গ্যাং নির্মূলে সবার সহযোগিতা চেয়ে আলী হোসেন ফকির আরো বলেন, ‘মাদকের ব্যাপারে আমরা জিরো টলারেন্স। কিশোর গ্যাং নির্মূলের ব্যাপারে আপনারা অবশ্যই পুলিশকে সহযোগিতা করবেন।’ ইউএনও এবং থানার ওসির নেতৃত্বে কিশোর গ্যাং প্রতিরোধে কমিটি করা হয়েছে। এ কমিটি কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করবে। অপরাধ প্রতিরোধে জনসাধারণের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ ও জনগণের সম্মিলিত ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন পুলিশ প্রধান। এর আগে বাগেরহাট পুলিশ লাইনে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেন তিনি। সমাবেশে মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, দুর্নীতি, কিশোর গ্যাং ও উগ্রবাদ প্রতিরোধে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন উপস্থিত সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।
