মেধাবী প্রজন্মই দেশকে উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিয়ে যাবে। আজকের শিক্ষার্থীরাই ভবিষ্যতে বাগেরহাটসহ সমগ্র বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেবে,প্রতিমন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীদের সাফল্যের পেছনে শিক্ষক ও অভিভাবকদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে।
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন।
বাগেরহাট জেলা পরিষদের উদ্যোগে জেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৪১৮ জন মেধাবী শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা ও বৃত্তি প্রদান করা হয়েছে। শনিবার (২৭ জুন) দুপুরে বাগেরহাট জেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এসব শিক্ষার্থীর হাতে বৃত্তির অর্থ ও সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়।
জেলা পরিষদের প্রশাসক ব্যারিস্টার শেখ মো. জাকির হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম।
তিনি প্রতিমন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীদের মেধা ও পরিশ্রমই দেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়নের প্রধান শক্তি। বর্তমান প্রজন্মকে দক্ষ, সৎ ও মানবিক নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে শিক্ষার বিকল্প নেই। মেধাবীদের যথাযথ মূল্যায়ন ও উৎসাহ প্রদান করলে তারা দেশ ও জাতির কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন,গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সাবেক সচিব ও জেলা বিসিএস অফিসার্স ফোরামের সভাপতি ড. মো. ফরিদুল ইসলাম বাবলু, সরকারি পি.সি. কলেজের অধ্যক্ষ শেখ জাহাঙ্গীর আলী,অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব এবং উন্নয়ন ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা) অনুপ দাশ, খানজাহান আলী ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ খন্দকার আসিব উদ্দিন রাখি, স্বাগত বক্তব্য রাখেন জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো: আবু রিয়াদ।
বাগেরহাট জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার এটিএম আকরাম হোসেন তালিম এবং সদস্য সচিব শেখ মোজ্জাফ্ফর রহমান আলম। এছাড়াও জেলা পরিষদের কর্মকর্তা, শিক্ষক, অভিভাবক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

সাবেক সচিব ও জেলা বিসিএস অফিসার্স ফোরামের সভাপতি ড. মো. ফরিদুল ইসলাম বাবলু, বলেন সমাজে অনেক শিক্ষার্থী রয়েছে, যারা অসম্ভব মেধাবী হওয়া সত্ত্বেও আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে নিজেদের সঠিকভাবে বিকশিত করতে পারে না। উন্নত শিক্ষা গ্রহণের ক্ষেত্রে তারা নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হয়। উচ্চশিক্ষার জন্য এ সকল অসহায় ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানো একটি মহৎ কাজ। আমাদের একটু সহযোগিতার মাধ্যমে তাদের ভবিষ্যৎ সঠিকভাবে গড়ে উঠতে পারে। ফরিদুল ইসলাম বাবলু তিনি আরো বলেন মাদক জীবন থেকে জীবন কেড়ে নেয়। মাদকের ভয়াল থাবায় ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। তাই মাদকের ছোবল থেকে আমাদের প্রজন্মকে রক্ষা করতে হবে।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, জেলার নয়টি উপজেলার এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় কৃতিত্বপূর্ণ ফল অর্জনকারী ৩৬৩ জন শিক্ষার্থীর কে বৃত্তি প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও সরকারি মেডিকেল কলেজে অধ্যয়নরত ৫৫ জন মেধাবী শিক্ষার্থীর বৃত্তি দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, মেধাবী শিক্ষার্থীদের আর্থিক সহায়তা ও সংবর্ধনা প্রদানের এই উদ্যোগ তাদের উচ্চশিক্ষায় আরও উৎসাহিত করবে। ভবিষ্যতেও জেলা পরিষদ শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং মেধাবী শিক্ষার্থীদের পাশে থাকার এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।
শেষে অতিথিরা শিক্ষার্থীদের হাতে বৃত্তির অর্থ, সনদ ও সম্মাননা স্মারক তুলে দেন। এ সময় শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

