দুই গোলে পিছিয়ে পড়েও দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন করে ফিফা বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। শেষ ষোলোর শ্বাসরুদ্ধকর লড়াইয়ে মিশরকে ৩-২ গোলে হারিয়েছে লিওনেল মেসির দল। নির্ধারিত সময়ের পর যোগ করা সময়ে এনজো ফার্নান্দেজের জয়সূচক গোলে নাটকীয় জয় নিশ্চিত করে আলবিসেলেস্তেরা।”
বাংলাদেশ সময় রাত ১০টায় আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে মিশর। ম্যাচের ১৪তম মিনিটে মারওয়ান আত্তিয়ার ক্রস থেকে দুর্দান্ত হেডে ইয়াসের ইব্রাহিম গোল করে দলকে এগিয়ে দেন।
পাঁচ মিনিট পর সমতায় ফেরার দারুণ সুযোগ পেয়েছিল আর্জেন্টিনা। নিকোলাস তাগলিয়াফিকো ডি-বক্সের ভেতরে ফাউলের শিকার হলে পেনাল্টি পায় তারা।
কিন্তু ২০তম মিনিটে লিওনেল মেসির নেওয়া স্পট কিক অসাধারণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন মিশরের গোলরক্ষক মোস্তফা শোবেয়র। ফলে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় মিশর।
বিরতির পর আক্রমণের ধার আরও বাড়ায় আর্জেন্টিনা। তবে ৫৮তম মিনিটে মিশর আরও একবার জাল কাঁপালেও ভিএআরের সিদ্ধান্তে গোলটি বাতিল হয়। এরপরও তারা দমে যায়নি। ৬৭তম মিনিটে মোহাম্মদ জিকো গোল করে ব্যবধান ২-০ করেন, ফলে বিদায়ের শঙ্কায় পড়ে যায় বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।”
তবে শেষ ১৫ মিনিটেই বদলে যায় ম্যাচের চিত্র। ৭৯তম মিনিটে লিওনেল মেসির নিখুঁত ক্রস থেকে হেডে গোল করে ব্যবধান কমান ক্রিস্তিয়ান রোমেরো। বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে এটি ছিল মেসির সপ্তম অ্যাসিস্ট। এরপর ৮৩তম মিনিটে নিজেই গোল করে আর্জেন্টিনাকে ২-২ সমতায় ফেরান মেসি।
সমতায় ফেরার পর আক্রমণ আরও তীব্র করে আর্জেন্টিনা। নির্ধারিত ৯০ মিনিট শেষে যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে দুর্দান্ত এক কাউন্টার অ্যাটাক থেকে এনজো ফার্নান্দেজ হেডে জয়সূচক গোল করেন। শেষ পর্যন্ত ৩-২ ব্যবধান ধরে রেখে নাটকীয় জয় নিশ্চিত করে আর্জেন্টিনা।”
এই জয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিল বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। দুই গোলে পিছিয়ে থেকেও যে লড়াইয়ের মানসিকতা দেখিয়েছে আর্জেন্টিনা, তা বিশ্বকাপের অন্যতম স্মরণীয় প্রত্যাবর্তনের তালিকায় জায়গা করে নেওয়ার মতো।#bL