ঢাকা ও ভারতের চিকিৎসকদের যৌথ প্রচেষ্টায় এক জটিল অস্ত্রোপচারের পর নতুন জীবন ফিরে পেয়েছেন বাগেরহাটের শরণখোলার মেধাবী কলেজছাত্রী ইসমত আরা ইতি। মৃত্যুর দুয়ার থেকে ছোট বোনকে ফিরিয়ে আনতে নিজের লিভারের অংশ দান করেছেন বড় বোন আয়েশা সিদ্দিকা আঁখি । ৪ জুলাই ঢাকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (পিজি হাসপাতাল) হাসপাতালে দীর্ঘ ১৩ ঘণ্টার অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও জটিল অস্ত্রোপচার সফল ভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
বর্তমানে দুই বোনই সুস্থ আছেন। পরিবার সূত্র জানায়, শরণখোলা সরকারি কলেজের একাদশ শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ইতি লিভার সিরোসিস আক্রান্ত ছিলেন। চার মাস ধরে পিজি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এই শিক্ষার্থীর লিভার প্রতিস্থাপনের জন্য প্রয়োজন ছিল প্রায় ৩০ লাখ টাকা, যা জোগাড় করা তাঁর পরিবারের পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়েছিল। চিকিৎসকেরা অস্ত্রোপচারের সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ করলেও টাকার অভাবে তা অনিশ্চিত হয়ে পড়ে।
‘আমি বাঁচতে চাই, আমার পরিবারকে ছেড়ে এত তাড়াতাড়ি চলে যেতে চাই না’ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইতির এমন আবেগঘন আর্তনাদ ও গণমাধ্যমে খবর প্রকাশের পর সহায়তায় এগিয়ে আসেন সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষেরা। মানুষের দেওয়া অর্থ এবং ভারতের হায়দরাবাদের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও বাংলাদেশের চিকিৎসকদের যৌথ দল পিজি হাসপাতালে এই সফল অস্ত্রোপচার পরিচালনা করেন।
ইতির বাবা আলমগীর হোসেন তালুকদার অশ্রু সজল চোখে বলেন, “মেয়ের চিকিৎসার জন্য সর্বস্ব শেষ করেছিলাম। সমাজের মানুষের সহযোগিতা আর বড় মেয়ের আত্মত্যাগের কারণে আজ আমার ছোট মেয়েটা নতুন জীবন ফিরে পেয়েছে। দীর্ঘ ১৩ ঘণ্টার অপারেশন শেষে ডাক্তাররা জানিয়েছেন দুই বোনই এখন সুস্থ আছে।”
যে বোনটি একদিন টাকার অভাবে চিকিৎসা বন্ধ হওয়ার আশঙ্কায় কেঁদে বুক ভাসিয়েছিল, আজ সেই বোনের শরীরেই বইছে আরেক বোনের জীবনকণা। ভালোবাসার এই পরম আত্মত্যাগ আর সমাজের মানুষের সহমর্মিতা প্রমাণ করল পৃথিবীতে এখনো মানবিকতা বেঁচে আছে। মৃত্যুর দুয়ার থেকে ফিরে আসা ইতি এখন নতুন করে স্বপ্ন দেখছেন সুস্থ হয়ে আবার তার চেনা কলেজ